NEET কাণ্ডে উত্তাল সংসদ! ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনড় বিরোধীরা, প্রিভিলেজ মোশনের নোটিশ

NEET প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ছাত্র বিক্ষোভের জেরে এখনও তীব্রভাবে উত্তপ্ত রয়েছে রাজধানী দিল্লি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছেন বিরোধী সাংসদরা। অন্যদিকে, শাসকদল বিজেপির পালটা অভিযোগ, সরকার সমস্ত বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও বিরোধীরা নানা অজুহাতে সেই আলোচনা থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

চলতি সপ্তাহের সোমবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন এই তরজার জেরে এখনও পর্যন্ত কার্যত অচল হয়ে রয়েছে। NEET কেলেঙ্কারি ছাড়াও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের পদক্ষেপ এবং অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদানের অর্থ চুরির মতো একাধিক অভিযোগে সরব হয়েছেন বিরোধীরা। ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের সাংসদরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে একযোগে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে চলেছেন।

লোকসভার অধ্যক্ষের সঙ্গে বিরোধীদের বৈঠক
পরিস্থিতি সামাল দিতে উদ্যোগী হন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। প্রশ্নোত্তর পর্ব চলাকালীন তিনি বিরোধী নেতাদের সঙ্গে দেখা করে আলোচনার সময় ও তারিখ নিয়ে কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, সরকার এই ইস্যুতে বিতর্কে প্রস্তুত এবং বিরোধীরা যে নিয়ম বা পদ্ধতির প্রস্তাব দেবেন, স্পিকার সেই অনুযায়ীই আলোচনার অনুমতি দেবেন। এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্যই এদিন রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদব-সহ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে সাংসদ সৌগত রায় ও মহুয়া মৈত্রও উপস্থিত ছিলেন।

রাহুল গান্ধীকে ‘হেনস্তা’ ও প্রিভিলেজ মোশন
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে চলা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। ওই বিক্ষোভের সময় পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করে লোকসভায় প্রিভিলেজ মোশন (Privilege Motion) আনার জন্য নোটিশ দিয়েছেন কংগ্রেস সাংসদ হিবি ইডেন।

স্পিকারকে লেখা চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ বিক্ষোভকারী সাংসদদের, বিশেষ করে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করেছে। তাঁকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ছত্রশাল স্টেডিয়ামে আটকে রাখা হয়। ইডেনের বক্তব্য, সংসদের বিরোধী দলনেতার পদটিকে ‘ছায়া প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে গণ্য করা হয়, ফলে তাঁর সঙ্গে এই ধরনের আচরণ গণতান্ত্রিক নীতি ও সংসদীয় রীতিনীতির প্রতি সরকারের চরম অবজ্ঞারই প্রমাণ।

মহুয়া মৈত্রের তোপ ও সরকারের প্রতিক্রিয়া
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, “আজকে নিয়ে তৃতীয় দিন দিল্লিতে সব মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকার এভাবে দিল্লিকে বন্দি করে রাখতে পারে না। সংসদের ভেতরে ও বাইরে একটাই দাবি—ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দাও। সরকার যদি ভাবে সংসদের ভেতরে আপোস করিয়ে বাইরে ছাত্রদের চুপ করাবে, তবে তা কখনই সম্ভব নয়।”

অন্যদিকে, বিরোধীদের বিরুদ্ধে পালটা আক্রমণ শানিয়ে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু বলেন, “আজ থেকেই NEET-এর প্রশ্নপত্র লিক নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। গতকালও বিরোধীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। সবাই রাস্তা খোঁজার কথা বললেও পরে নানা শর্ত ও বাহানা দিতে শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন, ছাত্রদের সুরক্ষার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু আজ দেখছি, বিরোধীরা ফের আলোচনা থেকে পালাতে চাইছে।”

এদিন সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা এবং রাহুল গান্ধী সহ ‘ইন্ডি’ জোটের সমস্ত সাংসদরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সংসদের বাইরে বড় ব্যানার হাতে বিক্ষোভ দেখান। সব মিলিয়ে, বর্ষাকালীন অধিবেশনের শুরুতেই তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক সংঘাত।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *