ছাত্রীদের জন্য বড় উপহার যোগী সরকারের! ফ্রিতে মিলবে স্কুটি, রেজিস্ট্রেশন থেকে ৫ লিটার পেট্রোল—জানুন কারা পাবেন এই সুবিধা?

ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় আরও বেশি করে উৎসাহিত করতে এক ঐতিহাসিক ও বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল উত্তর প্রদেশ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিসভার বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে অত্যন্ত লোভনীয় ‘রানি লক্ষ্মীবাই স্কুটি প্রকল্প’। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুক মেধাবী ছাত্রীদের যাতায়াত সংক্রান্ত সমস্ত অসুবিধা দূর করা এবং তাদের আরও বেশি আত্মনির্ভরশীল করে তোলা। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের প্রায় ৫০,০০০ মেধাবী ছাত্রী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্কুটার পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
কাদের জন্য এই প্রকল্প এবং কী কী সুবিধা মিলবে?
রাজ্যের রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি কলেজ, অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন স্ব-অর্থায়নে পরিচালিত কলেজের ছাত্রীরা এই প্রকল্পের আওতায় উপকৃত হবেন। তবে সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত ও যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে:
আয়সীমা: ছাত্রীর পরিবারের বার্ষিক আয় কোনোভাবেই ১২ লক্ষ টাকার বেশি হতে পারবে না।
ড্রাইভিং লাইসেন্স: আবেদনকারী ছাত্রীর একটি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক।
মেধা ও অগ্রাধিকার: ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক সম্পন্নকারী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ৫ শতাংশ মেধাবী ছাত্রীকে এই প্রকল্পে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিশেষ কোটা: শহীদের কন্যা, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের ছাত্রী এবং প্রতিবন্ধী ছাত্রীরা বিশেষ বিভাগের আওতায় এই প্রকল্পের সুবিধা লাভের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
শুধু স্কুটিই নয়, মিলবে রেজিস্ট্রেশন, বীমা ও পেট্রোল!
এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, সরকার কেবল ছাত্রীদের হাতে স্কুটার তুলে দিয়েই দায় সারছে না। এর পাশাপাশি স্কুটারের সরকারি রেজিস্ট্রেশন এবং বীমার সমস্ত খরচও বহন করবে রাজ্য সরকার। এমনকি সুবিধাভোগী ছাত্রীরা বিনামূল্যে একটি মানসম্মত হেলমেট, প্রয়োজনীয় নানা সরঞ্জাম এবং স্কুটারটিতে ব্যবহারের জন্য পাঁচ লিটার পেট্রোলও একেবারে ফ্রিতে পাবেন। রাজ্যজুড়ে পেট্রোল পাম্প ও সার্ভিস সেন্টারের সহজলভ্যতার কথা মাথায় রেখেই আপাতত পেট্রোলচালিত স্কুটার দেওয়ার এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুরো প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে একটি নির্দিষ্ট সরকারি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে স্কুটারগুলো কেনা ও বিতরণ করা হবে। সরকারের দৃঢ় বিশ্বাস, এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছাত্রীদের পড়াশোনা নির্বিঘ্ন করতে সাহায্য করার পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে।