লোকসভায় ধুন্ধুমার! মহিলা সাংসদকে কটূক্তি ও হাতাহাতির চেষ্টার অভিযোগে পুরো বাদল অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড কল্যাণ

লোকসভা থেকে সাসপেন্ড করা হলো তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মূলত অসংসদীয় আচরণ এবং মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগে গোটা বাদল অধিবেশনের জন্য তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ মিতালী বাগের সঙ্গে এক পর্যায়ে তীব্র বচসা শুরু হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অভিযোগ, মিতালী বাগকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন কল্যাণ। সেই সময় বাপি হালদার সহ অন্য সাংসদরা প্রতিবাদে এগিয়ে আসেন এবং তাঁরাও কল্যাণের বিরুদ্ধে সরব হন। এর আগেও দলের অন্দরে কাকলি ঘোষ দস্তিদার কল্যাণের বিরুদ্ধে মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলেন। এদিন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবকেও কল্যাণ অসম্মান করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি বচসা থেকে ঘটনা প্রায় হাতাহাতির পর্যায়ে গড়ায় বলে সংসদীয় সূত্রে খবর।
স্পিকারের কাছে নালিশ ও বেনজির ভোটাভুটি
এই ঘটনার পরই এনসিপিআই-এর মহিলা সাংসদরা সরাসরি লোকসভার স্পিকারের কাছে গিয়ে কল্যাণের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ জানান। বারবার মহিলা সাংসদদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করার অভিযোগ তুলে স্পিকারের দ্বারস্থ হন তাঁরা। এরপরই লোকসভায় অসংসদীয় আচরণের প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। শেষ পর্যন্ত বেনজির ভোটাভুটির মাধ্যমে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এক মারাত্মক ধাক্কা। বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই কোণঠাসা হয়ে পড়া দলের কাছে সংসদে কল্যাণের মতো জোরালো কণ্ঠস্বরের বরখাস্ত হওয়া বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও রাজ্য স্তরের ইস্যুতে যিনি সংসদে সবসময় মুখ খুলতেন ও আক্রমণ শানাতেন, পুরো বাদল অধিবেশন থেকে তাঁর এই বহিষ্কার নিঃসন্দেহে তৃণমূল শিবিরকে বড় বিপাকে ফেলল।