প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীও রেহাই পাবেন না! রাজ্যে পালাবদলের পরেই ক্যাগ রিপোর্ট নিয়ে বোমা ফাটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

রাজ্যে পালাবদল ঘটার পর বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার। সরকার পরিবর্তনের পর বিধানসভায় এই প্রথমবার ক্যাগ (CAG) এবং লোকায়ুক্তের রিপোর্ট নিয়ে অত্যন্ত জোরালোভাবে সরব হলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে বছরের পর বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্টগুলি বিধানসভায় পেশ করা হয়নি বলে গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি। বুধবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ক্যাগ রিপোর্টে দুর্নীতির প্রমাণ মিললে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কিংবা কোনো মন্ত্রী— কাউকে বিন্দুমাত্র রেয়াত করা হবে না। সরাসরি রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে এফআইআর (FIR) দায়ের করার সুপারিশ করবে বর্তমান সরকার।

দীর্ঘদিন ধরে ক্যাগ বা লোকায়ুক্তের রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হলেও পূর্বতন সরকার রাজনৈতিক কারণে তা এড়িয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ২৫ জুলাই বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাগ রিপোর্ট পেশ হতে চলেছে।

এই পুরো বিষয়টি নিয়ে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগামী ২৫ তারিখে ক্যাগের রিপোর্টগুলো তো প্লেস হবেই। পরবর্তী সেশনে আমরা ক্যাগের রিপোর্ট নিয়ে ডিসকাশন এবং তার যে রেকমেন্ডেশন রয়েছে, তার উপরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব এবং যেখানে যেখানে দুর্নীতির প্রামাণ্য ক্যাগ ধরবে, আমরা মহামান্য রাজ্যপালের কাছে সুপারিশ করব। তিনি মুখ্যমন্ত্রী হোন, মন্ত্রী হোন, আর যে যত বড় নেতাই হোন – তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর করার জন্য আমরা রাজ্যপালের কাছে সুপারিশ করব।”

অতীতে রাজ্যে আমফান ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ত্রাণ বন্টন ও পুনর্বাসনে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই পুরনো প্রসঙ্গ টেনে এনে বিগত সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া আর্থিক সাহায্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি, তিনি আমফানের সময় দু’দফাতে ৩৯৫০ কোটি টাকা দিয়েছিলেন এবং আমফানে বড় দুর্নীতি হয়, কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থের মামলা হয়।” তাঁর অভিযোগ, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে হওয়া সেই বিশেষ ক্যাগ তদন্তের রিপোর্ট পূর্বতন সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রকাশ্যে আনেনি। এমনকি বিধানসভাতেও তা পেশ করা হয়নি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দিষ্ট সুপারিশ থাকলেও বিগত সরকার সেই রিপোর্ট সম্পূর্ণভাবে ধামাচাপা দিয়ে রেখেছিল বলে দাবি করেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *