হাজার কোটি টাকার সুদ কার পকেটে যাচ্ছে? ইডি-র অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের!

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) তৃণমূল কংগ্রেসের যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করেছে এবং সেই তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন ঋতব্রত।

তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আমরা শহীদদের ‘ক্ষতিপূরণ’ দিচ্ছি, এমন ঔদ্ধত্য আমাদের নেই। অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা নিয়ে আমাদের বক্তব্য হলো, বছরে হাজার কোটি টাকার বেশি সুদ আসছে। এই সুদ কাদের জন্য? এটা কি পিসি-ভাইপোর পকেটে যাওয়ার জন্য, নাকি নিচুতলার কর্মীদের কাছে পৌঁছানোর জন্য?”

তিনি আরও দাবি করেন যে, যদি তাঁরা দলের অ্যাকাউন্ট পরিচালনার দায়িত্ব বা অধিকার পান, তবে প্রতি তিন মাস অন্তর দলীয় খরচের সমস্ত হিসেব জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে এবং তহবিলের ব্যবহারে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। এছাড়া তাঁদের প্রথম সিদ্ধান্ত হবে, ২১শে জুলাইয়ের শহীদদের পরিবারকে দলের পক্ষ থেকে মাসিক ১০,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।

নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতি ও সাংগঠনিক শক্তির দাবি
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জোর দিয়ে বলেন যে, দলের মূল সাংগঠনিক কাঠামো এবং সিংহভাগ নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই বর্তমানে তাঁদের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গেই রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের কাছে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া হয়েছে এবং কমিশনের তরফ থেকে অন্য কোনো তথ্যের প্রয়োজন হলে তা অবিলম্বে প্রদান করা হবে বলেও তিনি জানান।

সংসদেও বিদ্রোহী সাংসদদের অবস্থান ও ওয়াকআউট বিতর্ক
রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও বিদ্রোহী তৃণমূলের প্রভাব নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে:

আলাদা বসার ব্যবস্থা: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসা ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের জন্য সংসদে আলাদা বসার ব্যবস্থা অনুমোদন করেছেন।

এনসিপিআই (NCPI) সংযুক্তিকরণ: যদিও বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-এর সঙ্গে সংযুক্তিকরণের বিষয়টি এখনও স্পিকারের চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

সর্বদলীয় বৈঠকে ওয়াকআউট: গত রবিবার সংসদের বাদল অধিবেশনের আগে কেন্দ্রের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে এনসিপিআই-কে আমন্ত্রণ জানানোর প্রতিবাদে বিরোধী দলগুলি প্রতীকী ওয়াকআউট করে। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল যে এই আমন্ত্রণ সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী। যদিও পরবর্তীতে বিরোধীরা বৈঠকে যোগ দেন এবং এই ওয়াকআউটকে শুধুমাত্র একটি প্রতীকী প্রতিবাদ বলে উল্লেখ করেন।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *