স্কুল চলাকালীন মাথার ওপর ভেঙে পড়ল ছাদ! অল্পের জন্য রক্ষা পেল পর্ষদের ছোট ছোট শিশুরা, পাঁশকুড়ায় হাহাকার

বিকট শব্দ এবং চরম আতঙ্ক! স্কুল চলাকালীন হঠাৎই ভেঙে পড়ল ক্লাসরুমের ছাদ। বহুদিন ধরেই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বেহাল দশা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া ব্লকের প্রতাপপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের। মাথার ওপর শিয়রে বিপদ নিয়েই প্রতিদিন ক্লাসে যোগ দিতে হয় ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের। একইসঙ্গে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষাদান চালিয়ে যান শিক্ষক-শিক্ষিকারা। “এই বুঝি খসে পড়ল দেওয়াল, ভেঙে পড়ল ছাদ”—এই আশঙ্কাই দীর্ঘদিন ধরে তাড়া করে বেড়াচ্ছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের। তবে বরাত জোরে এ যাত্রায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং অল্পের জন্য প্রাণ রক্ষা পেয়েছে ছাত্রছাত্রীরা।

ঠিক কী ঘটেছিল ক্লাসরুমে?
ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার চতুর্থ পিরিয়ডে ক্লাস চলাকালীন আচমকাই শ্রেণিকক্ষের ছাদের একটি অংশ হুড়মুড়িয়ে খসে পড়ে। সেই বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে ক্লাসরুম থেকে বেরিয়ে আসে পড়ুয়ারা। সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। তবে এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় রীতিমতো ট্রমার মধ্যে রয়েছে কচিকাঁচারা। তাদের সাফ দাবি, অবিলম্বে স্কুল ভবন সংস্কারের স্থায়ী ব্যবস্থা করা হোক।

১৫ বছর ধরে বেহাল দশা, ক্ষোভ প্রকাশ প্রধান শিক্ষকের
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রকাশ কুমার ঘনা জানিয়েছেন, এটি কোনো আকস্মিক বা নতুন সমস্যা নয়। গত প্রায় ১৫ বছর ধরে স্কুলের ভোকেশনাল বিভাগের ছয়টি শ্রেণিকক্ষ সম্পূর্ণ জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ছাদের একাধিক জায়গায় বিপজ্জনকভাবে চাঙড় ঝুলে রয়েছে।

বিকল্প কোনো শ্রেণিকক্ষ না থাকার কারণে বাধ্য হয়েই ওই চরম ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষগুলিতেই ক্লাস চালাতে হচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষকে। প্রধান শিক্ষকের আরও অভিযোগ, আগের সরকারকে বিষয়টি একাধিকবার জানানো হয়েছিল। দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে এই দুর্দশার কথা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি। আগের সরকারের আমলে স্কুল সম্প্রসারণের জন্য লিখিত আবেদন করা হলেও তাতে কর্ণপাত করা হয়নি। বর্তমানে বর্তমান সরকারের কাছেও স্কুল সম্প্রসারণ ও জরাজীর্ণ ভবন সংস্কারের জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে।

প্রশাসনের আশ্বাস ও অভিভাবকদের ক্ষোভ
এদিকে, এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে শুধুই মৌখিক আশ্বাসে ভরসা রাখতে নারাজ অভিভাবক এবং পড়ুয়ারা। ভবিষ্যতে কোনো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সংস্কারের কাজ শুরু করার দাবি তুলেছেন তারা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *