বিয়ের পর মুসলিম নাম নেওয়াই কাল! ভদোদরায় মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ ৬৬ বছরের বৃদ্ধা

বিয়ের পর স্বামীর নাম ও পদবি গ্রহণ করার জেরে বর্তমান সময়ে এসে বড় বিপাকে পড়লেন এক ৬৬ বছর বয়সি অবসরপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী। ভদোদরা শহরে নিজের পছন্দমতো একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই বা বাসস্থান খুঁজে পেতে চরম সামাজিক ও প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজের পুরনো খ্রিস্টান নামটি ফিরে পেতে গুজরাত হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই প্রৌঢ়া। আদালতের তরফে এই বিষয়ে রাজ্য সরকার এবং সরকারি প্রিন্টিং ও স্টেশনারি ডিরেক্টরেটের কাছে নোটিস পাঠানো হয়েছে।

স্বামীর মৃত্যুর পর পুরনো পরিচয়ের খোঁজ
খ্রিস্টান পরিবারে জন্ম নেওয়া ওই মহিলা ভালোবেসে এক মুসলিম যুবককে বিয়ের পর নিজের নাম ও পদবি পরিবর্তন করে মুসলিম নাম গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ২০২১ সালে স্বামীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তিনি নিজের বাবা-মা ও পৈতৃক পরিবারের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেন এবং বিয়ের আগের পুরনো নামটিই আবার ব্যবহার শুরু করতে চান। তবে তাঁর প্রধান অভিযোগ, বর্তমান নামটি ব্যবহার করার ফলে ভদোদরার অ-মুসলিম এলাকাগুলিতে নতুন করে কোনো আবাসন বা বাড়ি ভাড়া পেতে মারাত্মক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে।

গেজেটে নাম পরিবর্তনের আবেদন খারিজ
অফিসিয়াল গেজেটে নাম পরিবর্তনের ঘোষণা প্রকাশের জন্য তিনি নিয়মমতো আবেদনও করেছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের তরফে তাঁর আবেদন এই বলে খারিজ করে দেওয়া হয় যে, কোনো রকম আনুষ্ঠানিক বিবাহবিচ্ছেদের (Divorce) নথি ছাড়া তিনি স্বামীর পদবি বাদ দিয়ে নিজের বাবার পদবি ও নাম ফিরিয়ে আনতে পারবেন না। প্রশাসনের এই একগুঁয়ে সিদ্ধান্তের পরেই তিনি বাধ্য হয়ে গুজরাত হাই কোর্টে এই খারিজের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা ঠোকেন।

আইনি সাফাই ও আদালতের নির্দেশ
আইনজীবীর মাধ্যমে জমা দেওয়া একটি অতিরিক্ত হলফনামায় আবেদনকারী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, তাঁর এই নাম পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য কোনো ধরনের দেওয়ানি বা ফৌজদারি দায় এড়ানো নয়। এমনকি তিনি আদালতকে এও জানিয়েছেন যে, স্বামীর বাড়ি ছেড়ে আসার পরই তিনি মৃত স্বামীর সম্পত্তির সমস্ত অধিকার ও দাবি স্বেচ্ছায় ত্যাগ করেছেন।

মামলাকারীর বক্তব্য, নিজের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার এবং কোনো রকম সামাজিক বৈষম্য ও বাধা ছাড়াই নিরাপদ আবাসন পাওয়ার জন্যই পুরনো নাম ফিরে পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। গোটা বিষয়টির মধ্যে বৃহত্তর সামাজিক ও আইনি দিক জড়িত থাকায়, গুজরাত হাই কোর্ট রাজ্য সরকারকে আগামী ২৭ আগস্টের মধ্যে এই বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে। সরকারের জবাব পাওয়ার পরই এই মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করবে আদালত।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *