“গঙ্গাজল দিয়ে পরিষ্কার করে আসব!” শমীক ভট্টাচার্যের চরম হুঙ্কারের পরেই পদত্যাগ করলেন কামারহাটির পুরপ্রধান?

কামারহাটি পুরসভায় রাজনৈতিক ডামাডোল যেন কিছুতেই থামছে না। একের পর এক নাটকীয় মোড় বদলের মাঝে এবার চরম সিদ্ধান্ত নিলেন নবনির্বাচিত পুরপ্রধান। চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন নির্দল কাউন্সিলর সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়। বস্তুত, দিনকয়েক আগেই কামারহাটি পৌরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে গোপাল সাহা ইস্তফা দেওয়ার পর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়। আর সেই পটপরিবর্তনের পরেই এ নিয়ে তীব্র কড়া বার্তা দিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে এই ধরনের ঘটনা দলীয় স্তরে বরদাস্ত করা হবে না। আর সেই হুঁশিয়ারি ও বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৮ দিনের মাথায় পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুশান্ত।
মঙ্গলবার বিকেলে মহকুমা শাসকের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়। শুধু তিনি একাই নন, তাঁর সঙ্গে আরও ষোলো জন কাউন্সিলরও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে খবর। এর ফলে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে গেল কামারহাটি পুরসভার বর্তমান পুরবোর্ড। বর্তমান পরিস্থিতিতে পৌরসভা পরিচালনার দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, তা এখন মহকুমা শাসকই ঠিক করবেন এবং তিনিই আপাতত সমস্ত প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করবেন।
কী বলেছিলেন শমীক ভট্টাচার্য?
পুরবোর্ড গঠন নিয়ে এর আগে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে শমীক ভট্টাচার্য বলেছিলেন, “আমি শুনলাম কামারহাটি পৌরসভায় নাকি পরিবর্তন হয়েছে। আমার কাছে খবর আসেনি। কেউ না কেউ ওখানে চেয়ারম্যান হয়ে গিয়েছেন। সংযত হয়ে যান। এখনও পর্যন্ত পার্টি কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এখনও পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংযত হয়ে তাঁর ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। যদি কেউ ভাবেন, ভারতীয় জনতা পার্টি একটা সেবাশ্রম হয়েছে, একটা হরিনাম সভা, যে কেউ নিজেকে কলকাতা, বিধাননগর, কামারহাটির কাউন্সিলর বানিয়ে ফেলবেন, পার্টি চুপ করে মেনে নেবে, এটা হতে দেওয়া যাবে না। কোনও নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক হোক, এখানে কারও কথা চলবে না। রাতারাতি কেউ যদি মনে করেন, জামাটা বদলে নিজেকে পৌরসভার চেয়ারম্যান হবেন, তাহলে পার্টির লোক যাবে, জেলা সভাপতি যাবে, ওই জায়গাটাকে গঙ্গাজল দিয়ে পরিষ্কার করে আসবে। কাউকে চেয়ারে বসতে দেওয়া হবে না।”
অন্যদিকে, এই পুরো ঘটনা প্রসঙ্গে সেই সময় লকেট চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, “সম্পর্কে দাদা হতেই পারেন। কিন্তু তিনি একজন নির্দল কাউন্সিলর। তাঁদের ওখানে কী করে বোর্ড হয়েছে, তা তাঁরা জানেন। আমার কিছু বলার নেই। তবে যেমন নিয়ম রয়েছে, তেমন হওয়া উচিত।”
এদিকে যাঁকে কেন্দ্র করে এই রাজনৈতিক জলঘোলা, সেই সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় নিজের সাফাইয়ে বলেছিলেন, “আমার ধারণা শমীকবাবুকে সম্পূর্ণ ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং ভুল বোঝানো হয়েছে। তাঁকে বলা হয়েছে, এটা নাকি বিজেপি পরিচালিত বোর্ড। কিন্তু আদতে এটি কোনোভাবেই বিজেপি পরিচালিত বোর্ড নয়।” সবমিলিয়ে, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কদিনের মধ্যেই এই গণ-পদত্যাগের ঘটনায় কামারহাটির রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে।