সফদরজং হাসপাতালে সোনম ওয়াংচুককে ‘আটক’ রাখার অভিযোগ! হস্তক্ষেপ চেয়ে সরাসরি রাষ্ট্রপতিকে চিঠি চিকিৎসকদের

নয়াদিল্লি: জলবায়ু ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক বর্তমানে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে জানালেও, তিনি হাসপাতালে বসেই নিজের অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে, সোনমের হাসপাতালে ভর্তি এবং সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিয়েছে সফদরজং হাসপাতালের রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (RDA)। হাসপাতালের ভেতরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রোগীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও চিকিৎসা নীতিশাস্ত্রের প্রশ্ন তুলে সরাসরি দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে একটি চার পৃষ্ঠার চিঠি পাঠিয়েছে এই চিকিৎসক সংগঠন।

রোগীর স্বাধীনতা ও ‘লামা’ (LAMA) না পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ
আরডিএ-র পাঠানো চিঠিতে সবচেয়ে জোরালোভাবে যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা হলো সোনম ওয়াংচুককে নিজের ইচ্ছায় হাসপাতাল ছাড়তে বা ছুটি (Leave Against Medical Advice – LAMA) নিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ।

সংগঠনটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, ওয়াংচুক একজন মানসিকভাবে সক্ষম রোগী হওয়া সত্ত্বেও যদি তাঁকে স্বেচ্ছায় হাসপাতাল ছাড়তে না দেওয়া হয়, তবে তা তাঁর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, অবহিত সম্মতি (Informed Consent) এবং সাংবিধানিক অধিকারকে সরাসরি লঙ্ঘন করে। চিকিৎসকদের সাফ কথা, হাসপাতাল হলো চিকিৎসা ও শুশ্রূষার জায়গা, স্পষ্ট কোনো আইনি নির্দেশ ও যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া হাসপাতালকে বন্দিশালা হিসেবে ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত। পুরো বিষয়টির একটি নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী তদন্ত দাবি করেছে তারা।

হাসপাতালের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে গত ১৮ জুলাই পুলিশ সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকেই হাসপাতাল চত্বরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আরডিএ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে:

হাসপাতালের নির্দিষ্ট কিছু ব্লকে জনসাধারণের ও রোগীর আত্মীয়দের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

প্রচুর পরিমাণে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করার ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসা পরিষেবা ও দৈনন্দিন কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।

চিকিৎসকদের মতে, নিরাপত্তা প্রয়োজন হলেও তা যেন কোনোভাবেই চিকিৎসালয়ের স্বাধীন পরিবেশ বা রোগীর গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ না করে।

যন্তরমন্তরে বলপ্রয়োগ ও লেডি হার্ডিঞ্জের ঘটনা নিয়ে তদন্তের দাবি
চিঠিতে কেবল হাসপাতালের ভেতরের ঘটনাই নয়, এর পাশাপাশি যন্তরমন্তরে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ার অভিযোগেরও একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। আরডিএ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে, তাই অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ সত্যি হলে তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এছাড়া, লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়েও নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছেন চিকিৎসকরা।

“হাসপাতালকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়”
চিঠির শেষ অংশে চিকিৎসকরা অত্যন্ত জোরালোভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সরকারি হাসপাতাল কিংবা স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনকে কোনোমতেই অ-চিকিৎসাগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়। যদি এই ধরনের ধারণা জনগণের মনে দানা বাঁধে, তবে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি মানুষের দীর্ঘদিনের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে।

আরডিএ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের এই চিঠি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়; বরং এটি সম্পূর্ণভাবে রোগীর মৌলিক অধিকার, চিকিৎসা নীতিশাস্ত্র এবং চিকিৎসালয়ের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার তাগিদ থেকেই পাঠানো হয়েছে। অবিলম্বে এই ঘটনার গভীরে গিয়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছে চিকিৎসক সংগঠনটি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *