তালিকাভুক্তিতেই বাজিমাত! ৭% প্রিমিয়ামে শেয়ার বাজারে এন্ট্রি নিল এসবিআই ফান্ডস ম্যানেজমেন্টের আইপিও

মঙ্গলবার শেয়ার বাজারে আত্মপ্রকাশ করল দেশের অন্যতম বৃহৎ ফান্ড হাউস এসবিআই ফান্ডস ম্যানেজমেন্ট (SBI Funds Management)-এর শেয়ার। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ৭% প্রিমিয়ামে তালিকাভুক্ত হয়েছে এই স্টক।
বিএসই (BSE): এখানে শেয়ারটি ৬১০ টাকায় খোলে, যা ইস্যু মূল্য ৫৭১ টাকা থেকে ৬.২৭% বেশি।
এনএসই (NSE): এই এক্সচেঞ্জে অফার মূল্যের চেয়ে ৬.৮৫% বৃদ্ধি পেয়ে ৬১৩.৩০ টাকায় তালিকাভুক্ত হয়।
বিনিয়োগকারীরা এই ৯,৮১৩ কোটি টাকার আইপিও-তে অত্যন্ত জোরালো আগ্রহ দেখিয়েছেন। যদিও তালিকাভুক্তির আগে গ্রে মার্কেট প্রিমিয়াম বা জিএমপি (GMP) ৯৭ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল এবং আনুমানিক তালিকাভুক্তি ৬৭১ টাকা (১৬.৯% লাভ) হতে পারে বলে আশা করা হয়েছিল, তবে প্রকৃত তালিকাভুক্তি গ্রে মার্কেটের সেই উচ্চাশার তুলনায় কিছুটা কম ছিল।
বাজার চলাকালীন শেয়ারের পরিসংখ্যান
সকাল ১০:২০ মিনিটে বিএসই-তে শেয়ারটি ইস্যু মূল্যের তুলনায় প্রায় ৮% বৃদ্ধি পেয়ে ৬১৭.৫০ টাকায় লেনদেন হচ্ছিল। এমনকি লেনদেন চলাকালীন এর দাম একসময়ে ৬২৪.৮০ টাকায় পৌঁছেছিল। অন্যদিকে, এনএসই-তে শেয়ারটি ৭%-এর বেশি বেড়ে ৬১৫.৭০ টাকায় লেনদেন হচ্ছিল (সর্বোচ্চ ৬২৪.৮০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল)।
পতনশীল বাজারের মাঝেও ইতিবাচক ধারা
বিশেষ লক্ষণীয় বিষয় হলো, এদিন সামগ্রিক শেয়ার বাজারে ছিল মন্দার হাওয়া। লেনদেন চলাকালীন সেনসেক্স ২১৫ পয়েন্ট কমে ৭৭,৪৯৩.০৩ পয়েন্টে নেমে আসে। একইভাবে, নিফটি ৫০ সূচকও প্রায় ৫০ পয়েন্টের বেশি কমে ২৪,১৮৮.১০ পয়েন্টে নেমে চাপ সৃষ্টি করে। এমন দুর্বল বাজারের মধ্যেও এসবিআই-এর এই আইপিও নিজের শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে।
বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে দুর্দান্ত সাড়া
১৪ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত খোলা এই আইপিওটি সব মিলিয়ে ৪১.৬৬ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে, যা সব শ্রেণীর বিনিয়োগকারীর ব্যাপক চাহিদার প্রমাণ দেয়:
QIB (প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী): সর্বোচ্চ ১৪০.১১ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে।
NII (অপ্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী): ২২.৫১ গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছে।
RII (খুচরা বিনিয়োগকারী): ৩.৬০ গুণ সাবস্ক্রিপশন দেখা গেছে।
এই আইপিও-র প্রতি শেয়ারের মূল্য ব্যান্ড নির্ধারিত ছিল ৫৪৫ থেকে ৫৭৪ টাকা পর্যন্ত।
সম্পূর্ণ ওএফএস (OFS) ভিত্তিক আইপিও
এই আইপিওটি পুরোপুরি একটি ‘অফার ফর সেল’ (OFS) ভিত্তিক ছিল। অর্থাৎ, বিদ্যমান দুই শেয়ারহোল্ডার— স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) এবং আমুন্ডি (Amundi) মিলে মোট ১৭১ মিলিয়ন শেয়ার বিক্রি করেছে। যেহেতু নতুন কোনো শেয়ার ইস্যু করা হয়নি, তাই এই অফারিং থেকে কোম্পানি সরাসরি কোনো তহবিল পাবে না; সম্পূর্ণ অর্থ বিক্রি করা শেয়ারহোল্ডারদের কাছেই যাবে।
তালিকাভুক্তির ফলে প্রোমোটার ও প্রোমোটার গ্রুপের মোট শেয়ারহোল্ডিং ৯৮.২% থেকে কমে ৮৯.৮% এ নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং সাধারণ জনগণের হাতে থাকা শেয়ার বা পাবলিক হোল্ডিং বেড়ে ১০.২% হবে, যা ভবিষ্যতে এই স্টকের তারল্য (Liquidity) আরও বৃদ্ধি করবে।