বিটেক-এমএস থেকে এআই কোর্স—ডিটিইউ-এর ৮৫তম বার্ষিকীর বিশেষ ঘোষণা কি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুখবর?

প্রতিষ্ঠার ৮৫ বছর পূর্ণ করল দেশের অন্যতম অগ্রণী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিল্লি টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি (DTU)। এই বিশেষ মাইলফলককে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের জন্য একগুচ্ছ নতুন শিক্ষামূলক, গবেষণা এবং উদ্ভাবনী প্রকল্পের ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০-এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিশ্বমানের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
নতুন যেসব কোর্স ও প্রোগ্রাম:
শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার সুযোগ দিতে ডিটিইউ বেশ কিছু নতুন ও সমন্বিত কোর্স চালু করছে:
সমন্বিত কোর্স: ডেটা সায়েন্স ও অ্যাপ্লায়েড স্ট্যাটিস্টিক্সে নতুন বিএসসি-এমএসসি কোর্স।
আন্তর্জাতিক প্রোগ্রাম: যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় ৪+১ বছরের ‘অ্যাক্সিলারেটেড বিটেক-এমএস’ প্রোগ্রাম।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা: মেকানিক্যাল অ্যান্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স (এআই) এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে নতুন বিটেক প্রোগ্রাম চালুর প্রস্তুতি।
অনলাইন সার্টিফিকেট: এআই, নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবস্থাপনা এবং ইএসজি (ESG) ও কর্পোরেট স্থায়িত্বের মতো বর্তমান বাজারের চাহিদাসম্পন্ন বিষয়ে পেশাজীবীদের জন্য অনলাইন সার্টিফিকেট কোর্স।
গবেষণায় জোরালো পদক্ষেপ:
ডিটিইউ-এর গবেষণার পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। ইতিমধ্যে এখান থেকে ১,০০০-এর বেশি পিএইচডি গবেষক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। গবেষণাগারকে আরও আধুনিক করতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ থেকে ১ কোটি টাকার বিশেষ অনুদান পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি, যা দিয়ে একটি অত্যাধুনিক ‘কোয়ান্টাম প্রযুক্তি গবেষণাগার’ তৈরি করা হবে। এছাড়া ভারতীয় সেনাবাহিনী, সিএসআইআর (CSIR) এবং বাজাজ অটো-র মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণামূলক চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে।
স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনে জোর:
নতুন প্রযুক্তির বিকাশে ডিটিইউ-এর শিক্ষার্থীরা এখন অনেক এগিয়ে। সাম্প্রতিক ‘দিল্লি স্টার্টআপ ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল’-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি স্টার্টআপ সেরা ছয়ের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে এবং একটি স্টার্টআপ ফোর্বস ইন্ডিয়ার শীর্ষ ১০০ তালিকায় জায়গা পেয়েছে। স্মার্ট ডাস্টবিনযুক্ত তিন চাকার গাড়ি থেকে শুরু করে গ্রামীণ উন্নয়নে সহায়ক নানা প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ডিটিইউ এখন দেশের নতুন উদ্ভাবকদের অন্যতম প্রধান আতুঁড়ঘর।
ডিটিইউ-এর এই উদ্যোগগুলি শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন করবে না, বরং তাদের প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে এক ধাপ এগিয়ে রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।