পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা, অথচ সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে নয়! সরকারকে তীব্র আক্রমণ উদ্ধব ঠাকরের

দিল্লির যন্তর মন্তরে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের অনশন ঘিরে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। এবার এই ইস্যুতে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করলেন শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। রবিবার মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে দাঁড়িয়ে তিনি সরকারের ‘জবাবদিহিহীন’ মানসিকতার কঠোর সমালোচনা করেন এবং এই আন্দোলনকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার ডাক দেন।

সরকারের দ্বিচারিতা নিয়ে প্রশ্ন:
উদ্ধব ঠাকরে এদিন চরম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখতে রাজি, কিন্তু ছাত্র অধিকারের দাবিতে অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে কথা বলার সময় নেই তাদের।” আরএসএস নেতৃত্ব ও কেন্দ্রীয় সরকারের এই নীতিকে কটাক্ষ করে উদ্ধব বলেন, পাকিস্তান যেখানে সন্ত্রাসী হামলা ও অনুপ্রবেশের মূল উৎস, সেখানে তাদের সঙ্গে আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ আর দেশের জন্য লড়াই করা ওয়াংচুককে উপেক্ষা করা—সরকারের ‘অন্ধকার’ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

‘ভবিষ্যৎ চুরির’ সরকার:
নিজের ভাষণে উদ্ধব ঠাকরে সরকারের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন:

এই সরকার কেবল ভোট বা সরকারি অর্থ নয়, দেশের তরুণ প্রজন্মের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ চুরি করেছে।

বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি এবং মানসম্মত শিক্ষার অভাব মেটাতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমি একজন দেশপ্রেমিক, সরকারের কোনো অন্ধ ভক্ত নই।”

সত্য লুকানো যায় না:
সোনম ওয়াংচুককে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দেওয়ার প্রচেষ্টায় তীব্র চটেছেন উদ্ধব। তিনি মনে করিয়ে দেন, এই মানুষটিই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর জন্য সৌরশক্তিচালিত বিশেষ তাঁবু ও আবাসন তৈরি করেছেন। উদ্ধবের কথায়, “পুলিশি ধরপাকড় চালিয়ে সোনমকে চাদরে মুড়ে লুকিয়ে রাখা যেতে পারে, কিন্তু সত্যকে এভাবে আড়াল করা যায় না। ঘোমটার আড়ালে নিজের পাপ ঢাকা সম্ভব নয়।”

দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক:
উদ্ধব ঠাকরে এই আন্দোলনকে কেবল যন্তর মন্তরের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর পরামর্শ:

নিজ নিজ এলাকায় সভা, মশাল মিছিল এবং মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে হবে।

আন্না হাজারের আন্দোলনের সময়কার ‘আমি আন্না’ টুপির মতো, এখন মানুষকে ‘আমি দেশপ্রেমিক, অন্ধ ভক্ত নই’ স্লোগান নিয়ে রাস্তায় নামতে হবে।

সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে এই লড়াইকে গণআন্দোলনে রূপ দিতে হবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এই ইস্যুতে উদ্ধবের এমন কঠোর অবস্থান সরকারকে চাপে ফেলার একটি কৌশল। যন্তর মন্তরের এই অনশন কি শেষ পর্যন্ত বড় কোনো রাজনৈতিক মোড় নেবে? এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় দেশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *