মেটলাইফ স্টেডিয়ামে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মেসি, স্পেনের কাছে স্বপ্নভঙ্গ আর্জেন্টিনার!

ফুটবল রূপকথার এক ট্র্যাজিক সমাপ্তি দেখল বিশ্ব। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নভঙ্গ হলো আর্জেন্টিনার। ম্যাচের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলটিই নির্ধারণ করে দিল বিশ্ব ফুটবলের নতুন রাজাকে। ম্যাচ শেষে মাঠে মেসির চোখের জল হৃদয় ভেঙেছে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর।
কান্নায় বিদায় নিলেন মহাতারকা:
রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে বসে পড়েন লিওনেল মেসি। চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল জাদুকর। গ্যালারি থেকে অগণিত সমর্থক তখন সমস্বরে তাঁর নাম ধরে চিৎকার করে সম্মান জানাচ্ছিলেন। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নামলেও এদিন স্প্যানিশ রক্ষণভাগের কাছে কার্যত বন্দি ছিলেন মেসি। প্রতিযোগিতায় ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে দারুণ ছন্দে থাকা মেসিকে এদিন কোনো সুযোগই দেয়নি লুইস দে লা ফুয়েন্তের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ।
স্পেনের ঐতিহাসিক জয়:
পুরো ম্যাচে বল পজিশন নিজেদের দখলে রেখে আধিপত্য বিস্তার করেছিল স্পেন। এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১০৬তম মিনিটে পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামসের হেড এবং পরবর্তীতে ফেরান তোরেসের হাফ-ভলিতে গোলের দেখা পায় স্পেন। টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলা স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল। একই সঙ্গে উয়েফা ইউরো ২০২৪-এর পর বিশ্বকাপ জয় করে ফুটবল ইতিহাসে অনন্য নজির গড়ল স্প্যানিশরা।
ব্যর্থতার দিনেও ব্যক্তিগত রেকর্ড:
ফলাফল আর্জেন্টিনার পক্ষে না এলেও, মেসি নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন বিরল সব রেকর্ড। ফুটবল ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার কৃতিত্ব অর্জন করলেন তিনি। পাশাপাশি, বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা সবচেয়ে বয়স্ক আউটফিল্ড খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ডও এখন তাঁর দখলে।
ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফেরার জন্য মেসি মরিয়া হয়ে উঠলেও স্পেনের জমাট রক্ষণ তা হতে দেয়নি। গ্ল্যামার আর ফুটবলের এমন এক বর্ণিল আসরের শেষে মহাতারকার এই বিদায়ে ফুটবল বিশ্ব যেন এক বিষণ্ণতার সুর অনুভব করছে।