বিধায়কদের দাদাগিরি নয়, কাজের চাপ! ৭ দিনে জবাবদিহি বাধ্যতামূলক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

রাজ্যের প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে এবং বিধায়কদের মর্যাদা রক্ষায় এক বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এখন থেকে কোনো বিধায়ক তাঁর এলাকার সমস্যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে, সেই মন্ত্রীকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে তার লিখিত জবাব দিতে হবে।
কী কী থাকছে এই নতুন নির্দেশনায়?
মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ, কেবল দায়সারা উত্তর দিলেই হবে না। উত্তর দেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট দফতরকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে:
বর্তমানে কাজের কী অগ্রগতি হয়েছে।
কোন কোন কাজ এখনও বাকি রয়েছে।
কেন সেই কাজ আটকে আছে বা বিলম্বিত হচ্ছে।
কাজ শেষ হতে আর কত সময় লাগতে পারে।
শুধু তাই নয়, এই লিখিত উত্তরের একটি প্রতিলিপি বাধ্যতামূলকভাবে পাঠাতে হবে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর (CMO)-এ। এছাড়া, প্রতি তিন মাস অন্তর ওই বিষয়গুলির হালনাগাদ তথ্য বিধায়কদের জানানোর নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, যাতে কাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়।
প্রশংসায় পঞ্চমুখ ফিরহাদ হাকিম:
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই বিধানসভায় অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। শাসকদলের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নতুন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। বিধানসভার ইতিহাসে এমনটা আগে কখনও হয়নি।” নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ফিরহাদ আরও বলেন, “আমি শাসক এবং বিরোধী—উভয় ভূমিকাতেই কাজ করেছি, কিন্তু জনপ্রতিনিধিদের এই পর্যায়ের সম্মান আগে দেখিনি।”
রাজনৈতিক তাৎপর্য:
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সমস্যার দ্রুত সমাধানে বড় ভূমিকা পালন করবে। বিধানসভার অন্দরে এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ইতিবাচক বাতাবরণ। বিরোধী দলগুলোও এই স্বচ্ছতার দাবিকে স্বাগত জানিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মন্ত্রীদের দফতরগুলো কতটা দ্রুত এই নতুন নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।