এবার লিভ-ইন সম্পর্কের নিয়মে বড় বদল, জেল হতে পারে ৫ বছর!

উত্তরাখণ্ডের পথ অনুসরণ করে এবার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) কার্যকর করার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল মধ্যপ্রদেশ। রবিবার মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের মন্ত্রিসভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই বিধিতে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেছে সরকার। তবে জনজাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়কে এই আইনের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
কী কী থাকছে নতুন এই বিধিতে?
মধ্যপ্রদেশের এই আইনে সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে:
লিভ-ইন সম্পর্কের কড়াকড়ি: লিভ-ইন সম্পর্কে থাকতে হলে যুগলকে এক মাসের মধ্যে প্রশাসনকে রেজিস্টার করতে হবে। সম্পর্কের জন্য পুরুষদের ন্যূনতম বয়স ২১ এবং মহিলাদের ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কোনো বিবাহিত ব্যক্তি যদি স্ত্রী বা স্বামীকে না জানিয়ে অন্য কারো সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে জড়ান, তবে তাঁর ৫ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে।
বিয়ের নতুন নিয়ম: আইনে বলা হয়েছে, স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকলে দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না। আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ হলেই কেবল দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি মিলবে। এছাড়া পঞ্চায়েত থেকে পুরসভা—সব ক্ষেত্রে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সম্পত্তির উত্তরাধিকার: পারিবারিক সম্পত্তির ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, এখন থেকে কন্যাসন্তানরা পুত্রসন্তানদের সমান অধিকার পাবে।
ধর্মীয় স্বাধীনতা: নতুন বিধিতে প্রতিটি মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে।
সরকারের যুক্তি:
মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এই আইনের সমর্থনে বলেন, “রাম হোক বা রহিম, ইউনিফর্ম সিভিল কোডের মাধ্যমে সকলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।” সরকারের দাবি, মুসলিম সম্প্রদায়ের একাংশের কাছ থেকেও এই বিধির পক্ষে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। মহিলাদের সম্মান রক্ষা এবং সামাজিক সাম্য বজায় রাখাই এই আইনের প্রধান উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রদেশ সরকার।
বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এটি দেশের অন্যান্য রাজ্যগুলোর ওপরও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর ক্ষেত্রে চাপ তৈরি করতে পারে।