বড় স্বস্তি নেই তৃণমূলের! ফ্রিজই থাকছে ১২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, জানাল হাইকোর্ট

একুশে জুলাইয়ের মহাসমাবেশের ঠিক আগে বড়সড় আইনি ধাক্কার মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। ইডি (ED) কর্তৃক ফ্রিজ করা তৃণমূলের ১২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে ফ্রিজ করা অ্যাকাউন্ট নিয়ে আদালত কোনওরকম হস্তক্ষেপ করবে না। ফলে আপাতত ইডির নির্দেশেই ওই অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ থাকছে।

কেন এই নির্দেশ?
তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলার তদন্ত শুরু হয়েছিল ইডির দায়ের করা ECIR-এর ভিত্তিতে। পুলিশের পক্ষ থেকে বাজেয়াপ্ত করা ১২টি অ্যাকাউন্ট ইডির নির্দেশে ফ্রিজ করা হয়েছিল। সেই অ্যাকাউন্টগুলো খোলার আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের একক বেঞ্চে মামলা করেছিল কালীঘাট তৃণমূল। তবে দীর্ঘ শুনানির পর আদালত তৃণমূলের সেই আর্জি খারিজ করে দেওয়ায় স্পষ্ট হয়েছে যে, আপাতত ফান্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি বাধা কাটল না শাসকদলের।

প্রেক্ষাপট কী?
এর আগে গত ৯ জুলাই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য একটি নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেখানে পুলিশ যে তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছিল, সেখানে সীমিত আকারে লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই খরচ তদারকির দায়িত্বে রাখা হয়েছিল প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে। তবে ইডির ফ্রিজ করা ১২টি অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে আজ বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের রায়ে অন্তর্বর্তী কোনো ছাড় পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক চাপানউতোর:
তৃণমূলের অন্দরের এই আর্থিক অস্বচ্ছতা নিয়ে আগেই সরব হয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে থাকা কোটি কোটি টাকার উৎস কী? দুর্নীতির টাকা এখানে জমা হয়েছে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

একুশে জুলাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির আগে দলের প্রধান অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় এটি তৃণমূলের জন্য এক বড় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *