কংগ্রেস কি স্বাধীনতার জন্য তৈরি হয়নি? বিস্ফোরক দাবি জমিয়ত প্রধান আরশাদ মাদানীর

দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় মন্তব্য করলেন জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দের সভাপতি আরশাদ মাদানী। সাম্প্রতিক এক সভায় তিনি কংগ্রেসের গঠন, স্বাধীনতা আন্দোলনে আলেমদের ভূমিকা এবং বর্তমান দেশের সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে বিতর্কিত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন।
কংগ্রেস ও স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট:
মাদানীর দাবি, কংগ্রেস দল আদতে স্বাধীনতার জন্য গঠিত হয়নি। তাঁর কথায়, “প্রাথমিক পর্যায়ে দলটির উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু-মুসলিম বিভেদ রোধ করা। পরবর্তীতে ১৮৫৭-এর বিপ্লব ও অন্যান্য সংগ্রামের শহীদদের চাপে কংগ্রেস স্বাধীনতার এজেন্ডা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, কোনো রাজনৈতিক দল গঠনের অনেক আগেই দেওবন্দের আলেমসমাজ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল।
মাদ্রাসা-মসজিদে ‘বুলডোজার’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা:
সাম্প্রতিক কিছু রাজ্যে মাদ্রাসা ও মসজিদের ওপর চালানো বুলডোজার অভিযানের কড়া সমালোচনা করেছেন মাদানী। তিনি বলেন, “ঘৃণা ও ভয়ের ওপর ভিত্তি করে একটি দেশ চলতে পারে না। দেশ চলে ভালোবাসা, সহানুভূতি ও ন্যায়বিচারের ওপর। সরকার আসে আর যায়, কিন্তু ন্যায়বিচার ও মানবতা চিরস্থায়ী।” তাঁর মতে, যারা ঘৃণা ছড়াচ্ছেন, তারা দেশের অগ্রগতির পথে বাধা সৃষ্টি করছেন।
স্বাধীনতা আন্দোলনে আলেমদের অবদান:
স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে মাদানী বলেন, “অনেক ধর্মীয় পণ্ডিত ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, ফাঁসির মঞ্চে উঠেছেন, কিন্তু কোনোদিন ক্ষমা চাননি।” তিনি শেখুল হিন্দ মাওলানা মাহমুদুল হাসানের অবদানের কথা উল্লেখ করে জানান, ব্রিটিশদের পরাধীনতা মেনে নিতে তাঁর পূর্বপুরুষেরা অস্বীকার করেছিলেন। আজ সেই ঐতিহ্যের চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।
একতার ডাক:
আরশাদ মাদানী বলেন, “আমরা এখানে ১৩০০ বছর ধরে বসবাস করছি। বর্তমান পরিস্থিতি হিন্দু, মুসলিম, শিখ ও খ্রিস্টানদের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ককে দুর্বল করে দিয়েছে।” তিনি সাম্প্রদায়িকতার কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করার ডাক দিয়ে বলেন, দেশের অগ্রগতির জন্য সকল ধর্মের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রকৃত ক্ষমতা কোনো দল বা সরকারের নয়, তা পরমাত্মার হাতেই থাকে।