লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়েই আকাশ জয়ের স্বপ্ন! ৭৭০টি বিমানের অর্ডারে বড় লক্ষ্যের দিকে এয়ার ইন্ডিয়া

২৭,০০০ কোটি টাকার বিশাল আর্থিক লোকসান এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মতো প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এয়ার ইন্ডিয়া তাদের উচ্চাভিলাষী সম্প্রসারণ পরিকল্পনা থেকে এক চুলও সরছে না। টাটা গ্রুপের এই বিমান সংস্থা আগামী পাঁচ বছরে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান বিমান চলাচল কেন্দ্রে পরিণত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে।

সাত শ’র বেশি নতুন ডানা
সংস্থাটির সম্প্রসারণ পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিপুল সংখ্যক নতুন উড়োজাহাজ। ২০২৩ সালে ৪৭০টি এবং ২০২৪ সালে আরও ৩০০টি মিলিয়ে মোট ৭৭০টি নতুন বিমানের অর্ডার দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। যদিও এই বিশাল বহরের বেশিরভাগই এখনও হাতে আসেনি, তবে এই বিমানগুলো এলে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা এবং আসন সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। এয়ার ইন্ডিয়ার চিফ কমার্শিয়াল অফিসার (CCO) নিপুন আগরওয়াল জানিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বের প্রতিটি প্রধান শহরের সাথে ভারতকে সরাসরি আকাশপথে সংযুক্ত করা।

লোকসান কেন বাড়ছে?
টাটা সন্সের বোর্ড এই বিপুল লোকসান নিয়ে চিন্তিত হলেও, সমস্যার কারণগুলো মূলত সংস্থার নিয়ন্ত্রণে নেই:

পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ: এর ফলে ইউরোপ ও আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের ফ্লাইটগুলোতে জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অত্যধিক বেড়ে গেছে।

ভূ-রাজনৈতিক উত্তজনা: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে বিমানের জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।

ফ্লাইট বাতিল: পরিস্থিতি সামলাতে জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন ১০০-এরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল, যা রাজস্বে বড় প্রভাব ফেলেছে।

ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই
নিপুন আগরওয়াল আশ্বস্ত করেছেন যে, সাময়িকভাবে স্থগিত থাকা অনেক ফ্লাইট এরই মধ্যে পুনরায় চালু হয়েছে এবং বাকিগুলোও শীঘ্রই স্বাভাবিক হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই সমস্যাগুলো কেবল সাময়িক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথেই এয়ার ইন্ডিয়া তাদের পূর্ণ শক্তিতে পরিষেবা প্রদান করবে।

যদি পাকিস্তানের আকাশসীমা দীর্ঘকাল বন্ধ থাকে, তবে বিকল্প কৌশলের কথা সংস্থাটি ভাবছে। তবুও টাটা গ্রুপের ওপর আস্থা রেখে এয়ার ইন্ডিয়া এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এক গর্বিত ভারতীয় বিমান সংস্থা হিসেবে বিশ্বের বুকে নিজেকে মেলে ধরাই এখন তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *