মানুষের জন্মের বহু আগে থেকেই ছিল অস্তিত্ব! ২ কোটি ৪০ লক্ষ বছর পুরনো কেওড়া গাছের জীবাশ্ম উদ্ধার

আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রত্নতত্ত্বের দুনিয়ায় এক অভাবনীয় তথ্য উঠে এল অসমের তিনসুকিয়া থেকে। অসমের মাকুম কয়লাখনি থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি গাছের জীবাশ্ম, যা পরীক্ষার পর বিজ্ঞানীরা যা জানতে পেরেছেন, তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। ২ কোটি ৪০ লক্ষ বছর আগেও এই গাছের অস্তিত্ব ছিল ভারতের মাটিতে! আর অবাক করা বিষয় হলো, সেই প্রাচীন গাছ আজও আমাদের চারপাশে বহাল তবিয়তে বেঁচে রয়েছে—এটি হলো আমাদের অতি পরিচিত ‘কেওড়া গাছ’।
কীভাবে মিলল এই প্রমাণ?
মাকুম কয়লাখনির গভীরে মাটির নিচে দীর্ঘ সময় ধরে চাপা পড়ে ছিল এই উদ্ভিদের জীবাশ্ম। দীর্ঘ গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এই জীবাশ্মটি আদতে কেওড়া গাছেরই। পৃথিবীর আবহাওয়া ও পরিস্থিতিতে কোটি কোটি বছর ধরে বড় বড় উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে গেলেও, কেওড়া গাছ তার টিকে থাকার অসাধারণ ক্ষমতা দিয়ে আজও নিজেকে টিকিয়ে রেখেছে।
কেন কেওড়া গাছ বিশেষ?
ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা এই কেওড়া গাছ কেবল আমাদের চেনা নামই নয়, এর বহুমুখী ব্যবহার আজও আমাদের জীবনযাত্রায় জড়িয়ে আছে:
খাদ্য ও সুগন্ধি: কেওড়া জল ছাড়া বিরিয়ানি বা বিভিন্ন মিষ্টির স্বাদ যেন অসম্পূর্ণ। এর সুগন্ধি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
প্রকৃতির ভারসাম্য: সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান গাছ এই কেওড়া। এর ফল ও পাতা হরিণ, বাঁদরসহ ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের বন্যপ্রাণীদের প্রধান খাদ্য।
ওষধি গুণ: প্রাচীনকাল থেকেই ঘরোয়া ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসায় কেওড়া গাছের নানা অঙ্গের ব্যবহার চলে আসছে।
বিজ্ঞানের চোখে এক অনন্য সাফল্য
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, মানুষ পৃথিবীতে আসার বহু লক্ষ বছর আগে থেকেই এই গাছের অস্তিত্ব ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূলতাকে জয় করে কোটি কোটি বছর ধরে টিকে থাকা এই গাছটি যেন প্রকৃতির এক ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’।
ভারতের সুন্দরবন থেকে শুরু করে দেশের নানা প্রান্তে আজও এই গাছ সগৌরবে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। এই জীবাশ্ম আবিষ্কার প্রমাণ করল, কেওড়া গাছ কেবল একটি সাধারণ উদ্ভিদ নয়, বরং এটি পৃথিবীর বিবর্তনের ইতিহাসের এক অমূল্য অংশ।