তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৬৪ কোটির হদিশ নেই! ইডির তল্লাশিতে কি খুলবে রহস্যের জট?

রাজ্য রাজনীতিতে এখন কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন। দলীয় অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তদন্তের জাল আরও গুটিয়ে আনছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ১৬৪ কোটি টাকার বিপুল অঙ্কের লেনদেনের কোনো যথাযথ হিসেব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই আর্থিক অস্বচ্ছতার কিনারা করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়েছে ইডি।
তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে যা রয়েছে:
পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি ইডি এই মামলার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে। অভিযোগ, দলীয় অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কাটমানি এবং অন্যান্য বেআইনি উপায়ে আসা টাকার লেনদেন করা হয়েছে। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের দাবি, “এই ১৬৪ কোটি তো কিছুই না, তদন্ত যত এগোবে এই অঙ্ক ১০০০ কোটিতে পৌঁছানো অস্বাভাবিক কিছু নয়।”
অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ ও আইনি জটিলতা:
তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ও ইডি দফায় দফায় তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে। শুরুতে তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল, যাতে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে বলে খবর। যদিও বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, দল আপাতত ওই অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করতে পারবে, তবে এর ওপর নজরদারির জন্য একজন স্পেশাল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। পরবর্তীকালে সন্দেহজনক লেনদেনের ভিত্তিতে আরও ১২টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়। এক তৃণমূল বিধায়কের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইডির পরবর্তী লক্ষ্য:
ইতিমধ্যেই ইডির নজরদারিতে রয়েছে তৃণমূলের ফ্রিজ করা তিনটি অ্যাকাউন্ট সহ অন্যান্য অ্যাকাউন্টগুলোও। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা মনে করছেন, এই বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস খুঁজে বের করাই এখন তাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যথাযথ নথিপত্র এবং ব্যাঙ্কের স্টেটমেন্ট খতিয়ে দেখার জন্য ইডি বর্তমানে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
রাজ্যের শাসকদলের অ্যাকাউন্টে এই বিপুল অঙ্কের টাকার উৎস এবং তার লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে এখন প্রবল রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ইডি তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।