আর ছিঁড়বে না, ভিজবে না! ভারতের বাজারে আসছে প্লাস্টিকের নোট, বড় পদক্ষেপ আরবিআই-র

দীর্ঘস্থায়ী এবং জালিয়াতি-প্রতিরোধী নোটের সন্ধানে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করে, খুব শীঘ্রই কাগজের নোটের পরিবর্তে প্লাস্টিক বা পলিমার নোট প্রচলনের পথে হাঁটছে ভারত। সংশ্লিষ্ট মহল সূত্রে খবর, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২০২৭ সাল নাগাদ দেশজুড়ে প্লাস্টিকের নোট চালু হতে পারে।
কেন এই পরিবর্তন?
কাগজের নোটের তুলনায় প্লাস্টিকের নোটের স্থায়িত্ব অনেক বেশি। এগুলো সহজে ছিঁড়ে যায় না এবং জল বা ঘামে নষ্ট হওয়ার ভয়ও থাকে না। এই উন্নতমানের নোট তৈরির জন্য বিশেষ ‘পলিমার সাবস্ট্রাট শিট’ ব্যবহার করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই এই শিট সরবরাহের জন্য আন্তর্জাতিক উৎপাদনকারীদের সাথে আলোচনা শুরু করেছে। আরবিআই-এর মুদ্রণ বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ১৮ আগস্টের মধ্যে দেশি ও বিদেশি সংস্থাগুলিকে তাদের বিড জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তায় বিশেষ কড়াকড়ি:
প্লাস্টিকের নোট প্রবর্তনের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। টেন্ডারের শর্তাবলীতে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশিকা রয়েছে:
সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স: বিডিং প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া সংস্থাগুলিকে সরকারের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা ছাড়পত্র নিতে হবে।
চিন-পাকিস্তান সংযোগে নিষেধাজ্ঞা: ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নোট তৈরির কোনো কাঁচামাল চিন বা পাকিস্তান থেকে সংগ্রহ করা যাবে না।
গোপনীয়তা: ভারতের জন্য উৎপাদিত এই বিশেষ পলিমার সামগ্রী অন্য কোনো দেশে বিক্রি করা যাবে না, যা নোট জালিয়াতি ঠেকাতে একটি বড় পদক্ষেপ।
অতীতের অভিজ্ঞতা:
এটি প্রথমবার নয় যে ভারত প্লাস্টিকের নোট নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে। এর আগে ২০০০ সালে প্রথম পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং ২০০৯ সালে ট্রায়াল হিসেবে ১০০ কোটি ১০ টাকার প্লাস্টিক নোট বাজারে ছাড়া হয়েছিল জয়পুর, সিমলা, ভুবনেশ্বর, মাইসোর ও কোচিতে। তবে সেই সময় এটিএম মেশিনগুলোতে এই নোট ব্যবহারে প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় প্রকল্পটি মাঝপথেই বন্ধ করে দিতে হয়েছিল।
তবে বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতির ফলে এটিএম ও অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের পরিকাঠামো এখন অনেক বেশি আধুনিক। ফলে এবার প্লাস্টিকের নোটের ব্যবহার সাধারণ মানুষের কাছে অনেক বেশি সহজতর হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।