ভারতীয় অর্থনীতির জন্য স্বস্তির খবর! টানা দু’সপ্তাহ বাড়ল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার

বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অশোধিত তেলের ক্রমবর্ধমান দামের আবহেও ভারতীয় অর্থনীতির জন্য এল এক ইতিবাচক খবর। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-র সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, টানা দু’সপ্তাহ বাড়ল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। ১০ জুলাই, ২০২৬ তারিখে শেষ হওয়া সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ৯৬৪ মিলিয়ন ডলার বেড়ে ৬৭৫.১৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, এর আগের সপ্তাহেও রিজার্ভে ৭.২৬ বিলিয়ন ডলারের বড় বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল।

রিজার্ভ বৃদ্ধির খুঁটিনাটি:

ফরেন কারেন্সি অ্যাসেট (FCA): বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সিংহভাগ জুড়ে থাকে ফরেন কারেন্সি অ্যাসেট। আলোচিত সপ্তাহে তা ৯৩০ মিলিয়ন ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪৬.৫১ বিলিয়ন ডলারে। উল্লেখ্য, ডলারের পাশাপাশি ইউরো, পাউন্ড এবং জাপানি ইয়েনের মতো মুদ্রার ভাণ্ডারও এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত।

স্বর্ণের ভাণ্ডার: রিজার্ভের পাশাপাশি দেশের সোনার মজুতও বেড়েছে। ১০ জুলাই পর্যন্ত স্বর্ণের ভাণ্ডার ২৪ মিলিয়ন ডলার বেড়ে ১০৫.২৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

অন্যান্য: আইএমএফ-এর কাছে থাকা ভারতের স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস (SDR) ৩ মিলিয়ন ডলার বেড়ে ১৮.৬২৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, রিজার্ভ ট্রাঞ্চ পজিশন ৭ মিলিয়ন ডলার বেড়ে হয়েছে ৪.৭৯৩ বিলিয়ন ডলার।

কেন এই বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ?
চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রেকর্ড ৭২৮.৪৯৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়, যার চাপ পড়েছিল ভারতীয় রুপির ওপর। টানা দুই সপ্তাহের এই বৃদ্ধি নির্দেশ করছে যে, বিশ্ববাজারের সেই অস্থিরতা কাটিয়ে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হচ্ছে।

অর্থনীতির রক্ষাকবচ হিসেবে রিজার্ভ:
যেকোনো দেশের অর্থনীতির স্বাস্থ্যের মূল মাপকাঠি হলো তার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। এর সুবিধাগুলি হলো:
১. আমদানি খরচ মেটানো: শক্তিশালী রিজার্ভ আমদানির ব্যয় মেটাতে সহায়ক।
২. রুপির স্থিতিশীলতা: রিজার্ভ বাড়লে তা রুপির ওপর চাপ কমিয়ে মুদ্রাকে শক্তিশালী রাখে।
৩. বিনিয়োগকারীদের আস্থা: পর্যাপ্ত রিজার্ভ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে সাহায্য করে।
৪. সংকট মোকাবিলা: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে রিজার্ভ এক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।

১৯৯০-এর দশকের শুরুতে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ার ফলেই দেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে হেঁটেছিল। তাই বর্তমান এই রিজার্ভ বৃদ্ধির ধারাকে ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তির ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *