‘মদ খেয়ে স্বামীকে মারতে চাই!’ স্কুল শিক্ষিকার বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় নেটদুনিয়া

নতুন সিজন শুরু হতে না হতেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে সমস্থ রায়নার জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘ইন্ডিয়াস গট লেটেন্ট’। শো-এর তৃতীয় এপিসোডে সাক্ষী ঝা নামে এক প্রতিযোগীর বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। পেশায় স্কুল শিক্ষিকা ও সোশ্যাল মিডিয়া ক্রিয়েটর সাক্ষী অডিশন দিতে এসে পুরুষ বিদ্বেষী (Misandry) এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা দেখে হতবাক বিচারক থেকে দর্শক—সবাই।
ঠিক কী বলেছিলেন সাক্ষী?
সাক্ষী ঝা শোয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে অকপটে স্বীকার করেন যে, তিনি পুরুষদের ঘৃণা করেন। এখানেই শেষ নয়, তিনি নিজের জীবনের একটি অদ্ভুত ‘লক্ষ্য’ বা ইচ্ছার কথা জানিয়ে বলেন, “আমি মদ খেয়ে আমার স্বামীকে পেটাতে চাই।” তাঁর এই মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই তিনি আরও দাবি করেন, কেবল অপরিচিত পুরুষ নয়, বরং নিজের বাবা এবং ভাইকেও তিনি পছন্দ করেন না। পুরুষদের ইগো ভেঙে দেওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক একটি বিষয় বলেও জানান তিনি। সাক্ষী নিজেকে ‘ট্রমাগ্রস্ত’ প্রজন্মের প্রতিনিধি বলে দাবি করে বলেন, মেয়ে হয়ে জন্মানো এই সময়ে একটি বড় ট্রমা।
বিচারক ও দর্শকদের প্রতিক্রিয়া:
সাক্ষীর এই চরম মন্তব্য শো-এর বিচারক সমস্থ রায়না, তন্ময় ভাট, বিশাল দাদলানি এবং রঘু রামকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলে। বিচারকরা তাঁর বক্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে সাক্ষী কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। শেষমেশ বিচারকরা তাঁকে কোনো নম্বর না দিয়ে শূন্য (Zero) প্রদান করেন এবং তাঁকে বিদ্রূপ করেন।
নেটপাড়ায় সমালোচনার ঝড়:
পর্বটি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে। নেটিজেনদের একাংশ এটিকে ‘টক্সিক ফেমিনিজম’ (Toxic Feminism) বলে অভিহিত করেছেন। একজন নেটিজেন লিখেছেন, “একজন শিক্ষিকা হয়েও বাস্তব জ্ঞান নেই, তিনি আবার পড়াচ্ছেন!” অন্য একজন লিখেছেন, “এনারা ফেক ফেমিনিস্ট। এমন বক্তব্য কেবল বিকৃত মানসিকতার পরিচয়।”
শো-এর অডিশন পর্বে প্রতিযোগীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও, সাক্ষীর এই ধরণের আক্রমণাত্মক মন্তব্য যে সমাজ ও লিঙ্গসাম্যের পরিপন্থী, তা নিয়েই এখন সোচ্চার সচেতন মানুষজন। বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় আসার চেষ্টা করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। আপাতত এই ঘটনাটি ‘ইন্ডিয়াস গট লেটেন্ট’-এর নতুন সিজনকে এক অপ্রীতিকর বিতর্কের মুখে ঠেলে দিল।