“রাতে ওর বাবা ফোনটা নিয়ে নিয়েছিল…”-ফুঁপিয়ে কাঁদছেন নিখোঁজ দময়ন্তীর মা

একদিকে ন্যাশনাল টিমের ট্রায়ালে ডাক পাওয়া, অন্যদিকে সামনেই গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট—ক্যারিয়ারের ঠিক এই সন্ধিক্ষণে এসে হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে গেল রাজ্যস্তরের রাইফেল শুটার দময়ন্তী সেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দময়ন্তীর খোঁজ না মেলায় আকাশ ভেঙে পড়েছে মধ্য হাওড়ার উমাচরণ ভট্টাচার্য লেনের সেন পরিবারে।
কী ঘটেছিল সেই সকালে? পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টা নাগাদ দুধ কেনার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয় দশম শ্রেণির এই পড়ুয়া। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মেয়ের খোঁজ না মেলায় ভেঙে পড়েছেন মা মৌমিতা রায় সেন এবং বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন।
‘ফোন নিয়ে নেওয়াই কি অভিমান?’
দময়ন্তীর নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যে একটি ছোট ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন মা মৌমিতা। তিনি জানান, বুধবার রাতে দময়ন্তী তার বাবাকে ফোন দিতে ভুলে গিয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিন শুতে যাওয়ার আগে দময়ন্তী ফোনটি বাবাকে দিয়ে দেয়। কিন্তু বুধবার রাতে ফোন দিতে ভুলে যাওয়ায় বাবা ধ্রুবজ্যোতিবাবু নিজেই সেটি চেয়ে নেন। মা মৌমিতার আশঙ্কা, কিশোরী মনের ওপর হয়তো সেই ঘটনা অভিমান হয়ে চেপে বসেছিল। তবে ধ্রুবজ্যোতিবাবু জানিয়েছেন, “ও কিন্তু ফোন অ্যাডিক্ট নয়। মাঝেমধ্যে এমন ভুল হয়। ও আমার কাছে নিজেই ফোন জমা দেয়।”
সিসিটিভি ফুটেজে মিলল সূত্র নিখোঁজ হওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজে শেষবারের মতো দময়ন্তীকে হাওড়া স্টেশনের ৪-৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিকে হেঁটে যেতে দেখা গিয়েছে। তার পরনে ছিল গোলাপি রঙের হাফ টি-শার্ট ও হাফ প্যান্ট। দময়ন্তীর সন্ধানে মাহেশ-সহ বিভিন্ন এলাকায় ছুটে গিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু প্রতিবারই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে তাদের।
কোচ ও পরিবারের আকুল আবেদন বিখ্যাত অলিম্পিয়ান জয়দীপ কর্মকারের কাছে রাইফেল শুটিংয়ের প্রশিক্ষণ নেয় দময়ন্তী। প্রিয় ছাত্রীর নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জয়দীপ কর্মকার পোস্ট করেছেন, “দময়ন্তী তুমি ফিরে এসো।” বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন, যিনি আন্দুলের রানিবালা গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক, সব কাজ ফেলে এখন হন্যে হয়ে মেয়ের খোঁজ করছেন। মা মৌমিতা রায় সেনের কন্ঠে কান্নার সুর, “তোকে কিচ্ছু বলব না, শুধু বাড়ি ফিরে আয়। একবার অন্তত ফোন কর।”
বর্তমানে পুলিশি তদন্ত চলছে। মেয়েটি কি নিজেই অভিমানে বাড়ি ছেড়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দময়ন্তীর দ্রুত সুস্থভাবে ফিরে আসার অপেক্ষায় এখন গোটা পরিবার ও ক্রীড়ামহল।