দানবাক্সের কোটি কোটি টাকা গেল কোথায়? বদ্রীনাথ মন্দিরে বড়সড় দুর্নীতির পর্দাফাঁস, আটক একাধিক

চারধামের অন্যতম পবিত্র পুণ্যতীর্থ বদ্রীনাথ ধাম। আর সেই মন্দিরের প্রণামী বাক্স ও অনুদানের বিপুল অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠল খোদ মন্দির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে! এই ঘটনায় মন্দির কমিটির প্রাক্তন অফিসার রাজেন্দ্র চৌহানকে গ্রেফতার করেছে উত্তরাখণ্ড পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। এই দুর্নীতির সঙ্গে আরও অনেকেই জড়িত রয়েছে বলে ধারণা তদন্তকারীদের।

কীভাবে ফাঁস হলো দুর্নীতি? পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ চার ঘণ্টা জেরার পর রাজেন্দ্র চৌহানকে হেফাজতে নিয়েছে সিট। উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছিলেন। তবে অবসরের পরেই পুলিশের জালে আটকা পড়লেন তিনি। এর আগে এই একই ঘটনায় মন্দিরের প্রণামী ও অনুদান কর্মকর্তা প্রমোদ নটিয়ালকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে প্রমোদের কারচুপির প্রমাণ মেলাতেই তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে, দীর্ঘ সময় ধরে মন্দিরের তহবিল থেকে সোনা, রুপো এবং নগদ টাকা সরানোর কাজ চলছিল।

সিট-এর নজরে আরও অনেকে: তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই দুর্নীতির মূলে ছিল রাজেন্দ্র চৌহান এবং প্রমোদ নটিয়ালের এক গভীর ‘বোঝাপড়া’। দুজনে মিলে দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরের দানবাক্সের টাকা আত্মসাৎ করছিলেন। তবে সিট মনে করছে, এই আর্থিক তছরুপের জাল কেবল এই দু’জন কর্মচারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে মন্দির কমিটির আরও বড় কোনো চক্র বা প্রভাবশালীরা জড়িত থাকতে পারেন বলে পুলিশের সন্দেহ।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি: ধৃত রাজেন্দ্র চৌহানকে শনিবার আদালতে পেশ করা হবে। উত্তরাখণ্ডের পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পবিত্র তীর্থস্থানের অর্থ আত্মসাৎ করার ঘটনায় সাধারণ ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মন্দির কমিটির নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা নিয়েও এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠে এসেছে।

এখন সিট-এর জিজ্ঞাসাবাদের পর এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত আর কোন কোন রাঘববোয়ালদের নাম উঠে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সবাই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *