নিট টপার আরিয়ানের সাফল্যের রহস্য! দিনরাত ১৬-১৭ ঘণ্টা পড়াশোনা আর কী কী?

দেশজুড়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট আন্ডারগ্রাজুয়েট (নিট ইউজি) ২০২৬-এর ফলাফল প্রকাশ করল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। এবারের পরীক্ষায় দেশজুড়ে রেকর্ড সংখ্যক ১১.২১ লক্ষ পরীক্ষার্থী যোগ্যতা অর্জন করেছেন, যা দেশের মেডিক্যাল ও ডেন্টাল শিক্ষার ক্ষেত্রে এক বড় মাইলফলক।
পরীক্ষার পরিসংখ্যান:
শীর্ষস্থান: পাঞ্জাবের আরিয়ান গুপ্তা এবং হরিয়ানার পাংশুল বানসাল যৌথভাবে ৭২০-র মধ্যে ৭১৫ নম্বর পেয়ে দেশের শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছেন।
মেধার বিস্তার: ১৩৮ জন পরীক্ষার্থী ৬৯০ বা তার বেশি নম্বর পেয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৯ জন ৭০০-র গণ্ডি পার করেছেন।
প্রথম প্রচেষ্টায় সাফল্য: সফল শীর্ষ ১৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৩ শতাংশই প্রথমবার পরীক্ষা দিয়েছেন, যাদের বয়স ১৭ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে।
রাজ্যভিত্তিক সাফল্য: উত্তরপ্রদেশ থেকে সর্বোচ্চ ১.৭ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী সফল হয়েছেন। ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকেই এবার মেধাবীরা উঠে এসেছেন।
টপার আরিয়ান গুপ্তার সাফল্যের মন্ত্র:
লুধিয়ানার বাসিন্দা আরিয়ান গুপ্তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন শুরু হয়েছিল শৈশব থেকেই। অনকোলজিস্ট বা ক্যানসার বিশেষজ্ঞ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছেন। আরিয়ান জানান, তাঁর সাফল্যের পেছনে কোচিং ইনস্টিটিউট ও শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। তবে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি নিয়মিত বিরতি নিয়েছেন এবং নেটফ্লিক্স বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেছেন। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ঠাকুমার মৃত্যুর ঘটনা তাঁকে চিকিৎসক হওয়ার পথে প্রধান অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
পুনঃপরীক্ষা ও ফলাফল:
উল্লেখ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে প্রথম দফার পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর গত ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। পুনঃপরীক্ষার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ করে এনটিএ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে এমবিবিএস, বিডিএস, আয়ুষ এবং অন্যান্য সহযোগী স্বাস্থ্যবিজ্ঞান কোর্সে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে।