সরকারি স্কুলে ‘ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব’, জেনেনিন ঠিক কী কী শেখানো হবে?

ডিজিটাল অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করতে এক বড় উদ্যোগ নিল রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দপ্তর। সরকারি স্কুলগুলিতে শীঘ্রই চালু হতে চলেছে ‘ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব’। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের আধুনিক প্রযুক্তি ও সৃজনশীল শিল্পে দক্ষ করে তোলাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

কী কী শেখানো হবে? এই ল্যাবে পড়ুয়ারা প্রথাগত কম্পিউটার শিক্ষার বাইরে গিয়েও হাতে-কলমে আধুনিক প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ পাবে। পাঠ্যক্রমের বিশেষ আকর্ষণ:

  • অ্যানিমেশন ও ভিএফএক্স (VFX): গ্রাফিকস ও সিনেমার জগতের জনপ্রিয় সব কাজ।

  • গেমিং: গেম ডেভেলপমেন্টের প্রাথমিক পাঠ।

  • কমিকস: সৃজনশীল কমিকস তৈরির কৌশল।

  • এক্সটেন্ডেড রিয়্যালিটি (XR): ভার্চুয়াল ও অগমেন্টেড রিয়্যালিটির মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: প্রতি বছর প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে এই বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে সরকার। স্কুলস্তর থেকেই সৃজনশীল দক্ষতাকে ঝালিয়ে নিয়ে পড়ুয়ারা যাতে ডিজিটাল মিডিয়া, অ্যানিমেশন এবং গেমিং ইন্ডাস্ট্রির মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, সেটাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

প্রস্তুতির কাজ শুরু: ইতিমধ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে স্কুল শিক্ষা দপ্তর। রাজ্যজুড়ে সরকারি স্কুলগুলিতে বর্তমানে যে আইসিটি (ICT) এবং কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে, তার পরিকাঠামো ও যন্ত্রপাতির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তথ্য চেয়েছেন স্কুল শিক্ষা কমিশনার। জেলার বিদ্যালয় পরিদর্শকদের কাছে এই বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিকে আগামী ২২ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের ল্যাব সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত: শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, বর্তমান যুগে কেবল পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে প্রযুক্তিগত ও সৃজনশীল দক্ষতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের এই নতুন উদ্যোগ পড়ুয়াদের কেবল চাকরির খোঁজে নয়, বরং প্রযুক্তি-নির্ভর স্বনির্ভরতায় এক বড় দিশা দেখাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *