‘নিব্বা-নিব্বি’ আসলে কী? সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এই শব্দের রহস্য জানেন কি?

ফেসবুকের মিম পেজ হোক বা ইনস্টাগ্রামের রিলস— ‘নিব্বা’ (Nibba) এবং ‘নিব্বি’ (Nibbi) শব্দ দুটির সাথে পরিচিত নন, এমন নেটিজেন খুঁজে পাওয়া কঠিন। কিন্তু অদ্ভুত শোনানো এই শব্দগুলো ঠিক কোথা থেকে এল আর কেনই বা তা রাতারাতি তরুণ প্রজন্মের মুখের ভাষা হয়ে উঠল, তার নেপথ্যে রয়েছে এক চমকপ্রদ ইতিহাস।

শব্দটির আদি উৎস:
ভাষাবিদদের মতে, এই শব্দ দুটি কোনো বাংলা বা মূলধারার হিন্দি-ইংরেজি অভিধানের অংশ নয়। এর উৎস লুকিয়ে আছে মার্কিন পপ কালচার এবং কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকানদের অপভ্রংশ ইংরেজি বা ‘আফ্রিকান-আমেরিকান ভার্নাকুলার ইংলিশ’ (AAVE)-এর মধ্যে। আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গরা নিজেদের মধ্যে সদ্ভাব প্রকাশ করতে একটি নির্দিষ্ট বিতর্কিত শব্দ (N-word) ব্যবহার করেন, যা অন্য কোনো মহলে উচ্চারণ করা কার্যত অপরাধ। গেমিং ও ইন্টারনেটের যুগে সেন্সরশিপ এড়াতে সেই শব্দটিকেই মজার ছলে বিকৃত করে ‘নিব্বা’ (Nibba) হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন মিমাররা।

ভারতে কেন বদলে গেল অর্থ?
আন্তর্জাতিক স্তর থেকে যখন এই শব্দটি ভারতীয় ইন্টারনেট দুনিয়ায় প্রবেশ করল, তখন এর অর্থ ও প্রয়োগ পুরোপুরি বদলে গেল। ভারতে ‘নিব্বা-নিব্বি’ শব্দটি এখন আর বন্ধুত্বের প্রতীক নয়, বরং তা পরিণত হয়েছে কিশোর-কিশোরীদের ‘সস্তা’ ও ‘অপরিণত’ প্রেমকে ব্যঙ্গ করার এক মোক্ষম হাতিয়ারে।

কেন এই কটাক্ষ?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সামান্য কয়েকদিনের আলাপে যারা “উইদাউট ইউ আই উইল ডাই” বা এ জাতীয় অতি আবেগপ্রবণ স্ট্যাটাস দেন, কিংবা একে অপরকে ‘বাবু’, ‘শোনা’ বলে লোকদেখানো আদিখ্যেতায় মেতে ওঠেন— তাদেরই নেটিজেনরা ‘নিব্বা-নিব্বি’ বলে কটাক্ষ করেন। অর্থাৎ, যে প্রেমে গভীরতার চেয়ে লোকদেখানো নাটক বেশি, ডিজিটাল যুগে সেই সম্পর্কের এক নতুন নামকরণই হলো ‘নিব্বা-নিব্বি’।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এখনকার জেনারেশনের ভাষায়, কারো অতিরিক্ত নাটকীয়তাকে বিদ্রূপ করার বা মজার ছলে ছোট করার জন্য ‘নিব্বা-নিব্বি’ শব্দটির চেয়ে জনপ্রিয় আর কিছু নেই। ডিজিটাল যুগে সম্পর্কের এই নতুন সংজ্ঞা মিমারদের হাত ধরে আজ এতটাই জনপ্রিয় যে, এটি এখন অনলাইন সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *