আর শুধু বয়স্কদের রোগ নয়! ৩০-এর কোঠায় কেন বাড়ছে অস্টিওআর্থ্রাইটিস? সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

অস্টিওআর্থ্রাইটিস মানেই বার্ধক্যজনিত জয়েন্টের সমস্যা—এই ধারণা এখন অতীত। আন্তর্জাতিক অর্থোপেডিকস জার্নালের সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে ৩০ বছর বয়সি তরুণদের মধ্যেও এই রোগ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সারা সপ্তাহ অলস জীবন কাটানোর পর ছুটির দিনে হঠাৎ করেই অতিরিক্ত ব্যায়াম বা খেলাধুলায় মগ্ন হওয়া—যাকে চিকিৎসকরা বলছেন ‘উইকেন্ড ওয়ারিয়র’ (weekend warrior) সংস্কৃতি—এই রোগের অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেন বাড়ছে ঝুঁকি?
গবেষণায় স্পষ্ট যে, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং স্থূলতাই মূলত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশ্বজুড়ে বর্তমানে প্রায় ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত, যা মোট জনসংখ্যার ৭.৬ শতাংশ। গত ৩০ বছরে এর প্রকোপ ১৩২ শতাংশ বেড়েছে এবং ২০৫০ সাল নাগাদ তা আরও ৬০ শতাংশ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এটি কেবল একটি রোগ নয়, এক জটিল সিনড্রোম
বিজ্ঞানীরা অস্টিওআর্থ্রাইটিসকে আর একক কোনো রোগ হিসেবে দেখতে রাজি নন। একে এখন জৈবিক, বায়োমেকানিক্যাল, বিপাকীয় (metabolic), জিনগত এবং আণবিক প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে সৃষ্ট এক ‘জটিল সিনড্রোম’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হচ্ছে। এর ফলে ‘সবার জন্য একই চিকিৎসা’ (one-size-fits-all) পদ্ধতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হচ্ছে।

ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসার গুরুত্ব
গবেষণাটিতে প্রদাহ, বিপাকীয় কারণ এবং ব্যথার সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে রোগের ৬টি উপপ্রকার (phenotypes) শনাক্ত করা হয়েছে। চিকিৎসকরা এখন এমআরআই এবং বায়োমার্কার প্যানেলের মাধ্যমে রোগীর নির্দিষ্ট ধরন বুঝে চিকিৎসা করার সুপারিশ করছেন।

কেস স্টাডি ১: ৩৩ বছর বয়সি এক আইটি পেশাজীবী, যাঁর সমস্যার মূল কারণ ছিল ভিটামিন ডি-এর অভাব ও উচ্চ বিএমআই (BMI)। তাঁকে ‘মেটাবলিক অস্টিওআর্থ্রাইটিস’ হিসেবে চিহ্নিত করে ওজন নিয়ন্ত্রণ ও সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে সুস্থ করা সম্ভব হয়েছে।

কেস স্টাডি ২: ৬০ বছর বয়সি এক মহিলা, যাঁর ব্যথা ছিল মূলত স্নায়ু-জনিত। সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধ কাজ না করলেও, নিউরোমডুলেটর প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
অস্টিওআর্থ্রাইটিস থেকে বাঁচতে দীর্ঘক্ষণ নিষ্ক্রিয় না থেকে নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। হাড়ের জয়েন্টে কোনো সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে আধুনিক ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। আপনার শরীরের ধরন অনুযায়ী কাস্টমাইজড চিকিৎসায় এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *