সোনার ঝাঁটায় পথ পরিষ্কার, দিঘায় মহাসমারোহে রথযাত্রার সূচনা করলেন শিশির অধিকারী

আধ্যাত্মিক আবহ, ভক্তদের উচ্ছ্বাস এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দিঘা জগন্নাথ মন্দিরে পালিত হলো এবারের রথযাত্রা উৎসব। বৃহস্পতিবার সকালে সুসজ্জিত রথে মহাপ্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা দেবীর অধিষ্ঠান ঘিরেই সমুদ্র সৈকতে যেন নেমে এসেছিল মানুষের ঢল। এই বিশেষ দিনে রীতি মেনে সোনার ঝাঁটায় পথ পরিষ্কার করে রথের রশি টেনে উৎসবের শুভ সূচনা করেন কাঁথির প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী।

ঐতিহ্য ও ভক্তদের আবেগ
গত বছর এই রথযাত্রার সূচনা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁরই উপহার দেওয়া সেই সোনার ঝাঁটা দিয়েই এ বছর রথযাত্রার শুভ সূচনা করলেন শিশির অধিকারী। এদিন সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। জয় জগন্নাথ ধ্বনি, শঙ্খধ্বনি ও কীর্তনের সুরে চারপাশ হয়ে ওঠে মুখর। তিন নম্বর গেট থেকে শুরু হওয়া এই রথযাত্রা নির্ধারিত পথ অতিক্রম করে মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, আগামী সাত দিন মহাপ্রভু সেখানে অবস্থান করবেন।

নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা
বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে প্রশাসন ছিল অত্যন্ত তৎপর। জগন্নাথ মন্দির থেকে ওল্ডদিঘা পর্যন্ত পুরো পথের দু’ধারে ব্যারিকেড ও রেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী, সিভিল ডিফেন্স, এবং স্বেচ্ছাসেবকরা। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে রাখা হয় এবং ভিড় সামলাতে বিশেষ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

উৎসবের রঙে রাঙা সমুদ্র শহর
রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে দিঘার পর্যটন এলাকা ও মন্দির চত্বরকে আলোকসজ্জা ও ফুলে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল। পর্যটকদের ভিড় বাড়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও ছিল খুশির হাওয়া। এদিনের অনুষ্ঠানে রামনগরের বিধায়ক ড. চন্দ্রশেখর মণ্ডল ও পটাশপুরের বিধায়ক তপন কুমার মাইতি-সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আগামী উল্টোরথ পর্যন্ত দিঘা যে ভক্ত ও পর্যটকদের ভিড়ে মুখর থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। আধ্যাত্মিক ভাবগাম্ভীর্য এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় দিঘার এই রথযাত্রা উৎসব এক অনন্য মাত্রা পেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *