রাশিয়ায় পেট্রোলের হাহাকার, তেল চেয়ে ভারতের দ্বারস্থ মস্কো, জেনেনিন কি পরিস্থিতি?

বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে গত কয়েক বছরে ভারত ও রাশিয়ার জ্বালানি সম্পর্কের সমীকরণ ছিল বেশ স্পষ্ট—ভারত রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করত। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে এবার সেই সম্পর্কে এল এক নাটকীয় মোড়। ক্রমাগত ড্রোন ও মিসাইল হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিজের দেশেই পেট্রোলের তীব্র সঙ্কটের মুখে মস্কো। আর এই দুর্দিনে এবার ভারতের রিফাইনারিগুলোর কাছে অতিরিক্ত পেট্রোলের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে রাশিয়া।

কী জানা যাচ্ছে? আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় তেল সংস্থা—রসনেফ্ট, গ্যাজপ্রম নেফ্ট এবং লুকঅয়েল—ইতিমধ্যেই ভারতের সরকারি ও বেসরকারি রিফাইনারিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার রিফাইন করার সক্ষমতা প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গিয়েছে, যা আগামী দু’মাস পর্যন্ত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই ঘাটতি মেটাতেই ভারতের শরণাপন্ন হয়েছে পুতিন প্রশাসন।

ভারতের অবস্থান কী? ভারতের সরকারি মালিকানাধীন তিনটি রিফাইনারি (আইওসিএল, বিপিএল, এইচপিসিএল) রাশিয়ান সংস্থাগুলোর কাছ থেকে অনুরোধ পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও, রফতানির জন্য অতিরিক্ত মজুত না থাকায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি যদিও সরাসরি কোনো রফতানির কথা অস্বীকার করেছেন, তবে তিনি জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক ট্রেডারদের মাধ্যমে রুশ ক্রেতারা পরোক্ষভাবে ভারতীয় জ্বালানি পেতেই পারেন। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই পেট্রোলবাহী একটি জাহাজ রাশিয়ার দিকে রওনা হয়েছে।

কেন এই সঙ্কট? গত কয়েক মাস ধরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার খনিজ তেল শোধনাগারগুলি ধারাবাহিকভাবে হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখন যথেষ্ট চাপে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের অন্যতম বড় উৎপাদক হয়েও, আজ নিজেদের ঘর সামলাতে ভারতসহ মিত্র দেশগুলোর কাছে সাহায্যের আবেদন করতে হচ্ছে রাশিয়াকে।

তাৎপর্য: ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ভারতের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে। এখন রাশিয়া নিজেই পেট্রোলের জন্য ভারতের দিকে তাকিয়ে থাকায় এটি বিশ্ববাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুই দেশের জ্বালানি সম্পর্কের এই পরিবর্তনটি আন্তর্জাতিক বাজারে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *