পুরীর পর দ্বিতীয় প্রাচীন রথযাত্রা! মাহেশের রথযাত্রা কেন জগৎবিখ্যাত? জানুন এর পৌরাণিক ইতিহাস

পুরীর জগন্নাথদেবের রথযাত্রার পরেই যদি ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার কথা বলতে হয়, তবে সবার প্রথমে উঠে আসে হুগলির শ্রীরামপুরের মাহেশের নাম। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রাধারানী’ উপন্যাসে অমর হয়ে থাকা এই মাহেশের রথযাত্রা আজও লক্ষাধিক মানুষের উদ্দীপনা ও ভক্তির কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু কীভাবে শুরু হয়েছিল মাহেশের এই রথযাত্রার ইতিহাস? তা আজও ভক্তদের মুখে মুখে ঘোরে।
স্বপ্নে আদেশ ও অলৌকিক প্রাপ্তি
কিংবদন্তি অনুসারে, ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী নামে বাংলার এক সাধু পুরীতে গিয়ে জগন্নাথদেবকে নিজে হাতে ভোগ রেঁধে খাওয়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কিন্তু মন্দিরের সেবায়েতরা তাঁকে সেই সুযোগ দেননি। অভিমানে ধ্রুবানন্দ আমরণ উপবাস শুরু করেন। উপবাসের তৃতীয় দিনে তিনি স্বপ্নে জগন্নাথদেবের দর্শন পান। জগন্নাথদেব তাঁকে বাংলায় ফিরে গঙ্গার তীরে তপস্যা করতে বলেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে, সেখানে তিনি তাঁর হাতের ভোগ গ্রহণ করবেন।
স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী, ধ্রুবানন্দ মাহেশে ফিরে তপস্যা শুরু করেন। একদিন গঙ্গার স্রোতে ভেসে আসে এক পবিত্র নিম কাঠ। সেই কাঠ দিয়েই ধ্রুবানন্দ তৈরি করেন জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তি। শুরু হয় মাহেশে জগন্নাথদেবের নিত্যপুজো ও রথযাত্রার ঐতিহ্য।
শ্রীচৈতন্যের পদধূলি ও ‘নব নীলাচল’
মাহেশের এই পবিত্র মন্দিরটি কেবল ভক্তদেরই নয়, আকৃষ্ট করেছিল শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকেও। মাহেশের আধ্যাত্মিক পরিবেশ ও জগন্নাথদেবের উপস্থিতিতে মুগ্ধ হয়ে শ্রীচৈতন্যদেব এই স্থানটির নাম দিয়েছিলেন ‘নব নীলাচল’।
আজও মাহেশের রথযাত্রায় সেই একই ভক্তি ও উদ্দীপনা দেখা যায়। কয়েকশো বছরের এই পরম্পরা আজও অমলিন। রথের মেলা ও লক্ষাধিক মানুষের সমাগমে মাহেশ হয়ে ওঠে বাংলার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মিলনক্ষেত্র।