‘তোর মাকে খুন করব!’ ছেলের ফোনে বাবার পাঠানো অডিও বার্তাই কি কাল হলো? জঙ্গলে উদ্ধার গৃহবধূর দেহ

জলপাইগুড়ির গয়েরকাটার মোরাঘাট জঙ্গল থেকে এক মহিলার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃতার নাম চুমকি রায়। এই ঘটনায় মৃতের স্বামী বিমল রায়ের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।

ঠিক কী ঘটেছিল?
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে স্বামী বিমল রায়ের সঙ্গে চুমকি দেবীর তুমুল বচসা হয়। ঝগড়ার পর চুমকি দেবী বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। এরপরই বিমল রায়ও বাড়ি থেকে বের হন। অভিযোগ, কিছুক্ষণ পরেই তাঁদের ১৪ বছরের ছেলের হোয়াটসঅ্যাপে বাবার পাঠানো একটি ভয়েস মেসেজ আসে। তাতে পরিষ্কার শোনা যায় বিমল বলছেন, “তোর মাকে খুন করব।” এই অডিও বার্তাই এখন তদন্তের অন্যতম প্রধান সূত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দেহ উদ্ধার ও আলামত
বুধবার সন্ধ্যায় স্থানীয় বাসিন্দারা জঙ্গলের ভেতর দেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। খবর দেওয়া হয় বানারহাট থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, মৃতার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি রক্তমাখা ধারাল ছুরি এবং এক জোড়া জুতো উদ্ধার করেছে। এই অস্ত্র দিয়েই খুন করা হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

কী বলছে পুলিশ?
বানারহাট থানার আইসি সুরজ থাপা জানিয়েছেন, “মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি খুন কি না, বা নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে। আমরা মৃতার স্বামীর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছি।”

তদন্তে পুলিশ
পারিবারিক অশান্তি নাকি পরকীয়ার জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড, তা জানতে পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে। ঘটনার পর থেকেই স্বামী বিমল রায় পলাতক। পুলিশ সূত্রে খবর, অডিও বার্তাটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *