মোদীর এক কথাতেই ইউক্রেনে পরমাণু হামলার প্ল্যান থামান পুতিন, ফাঁস হলো সেই তথ্য

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তাল সময়ে পুতিনের হাত থেকে পরমাণু বোমার ব্যবহার রুখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমনটাই বিস্ফোরক দাবি করলেন পোল্যান্ডের উপ-বিদেশমন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ তেওফিল বারতোশেভস্কি। তাঁর মতে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্বের হাতেগোনা যে কয়েকজন বিশ্বনেতার পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে শোনেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
সোমবার নয়াদিল্লিতে ভারত-পোল্যান্ড যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠকের পর বারতোশেভস্কি বলেন, “২০২২ সালের শেষ দিকে ইউক্রেন যুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমনে প্রধানমন্ত্রী মোদী বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন।” তিনি আরও জানান, ভারত ও রাশিয়ার ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণেই মোদীর ব্যক্তিগত প্রভাব পুতিনের ওপর কাজ করে, যা বিশ্বশান্তি রক্ষায় সহায়ক হয়েছে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে মোদীর “এটা যুদ্ধের যুগ নয়” মন্তব্যটি এখনো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SCO) সেই বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এরপর থেকে ভারত ধারাবাহিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত মেটানোর পক্ষে সওয়াল করেছে। একদিকে যেমন পুতিনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছেন মোদী, অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথেও কিয়েভ সফরসহ একাধিকবার আলোচনা করেছেন তিনি।
কূটনৈতিক কৌশলে ভারত: আমেরিকা ও পশ্চিমী দেশগুলোর প্রবল চাপ সত্ত্বেও ভারত নিজস্ব বিদেশনীতিতে অবিচল। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে ভারত। পাশাপাশি, ইরান ইস্যুতেও ভারতের কৌশলগত ভারসাম্য এবং সন্ত্রাসবাদবিরোধী অবস্থানের প্রশংসা করেছেন পোল্যান্ডের মন্ত্রী। তিনি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং উত্তেজনা প্রশমনে ভারত যে কূটনৈতিক পথ বেছে নিয়েছে, তা পোল্যান্ডের কাছেও শিক্ষণীয়।
শুধু ইউক্রেন বা ইরান ইস্যু নয়, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবির প্রতিও পোল্যান্ড পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। ভ্লাদিস্লাভ তেওফিল বারতোশেভস্কির কথায়, ভারত এখন এক গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বশক্তি, যারা নিজস্ব স্বাধীন বিদেশনীতির মাধ্যমে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা পালন করছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পোল্যান্ডের উপ-বিদেশমন্ত্রীর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং প্রধানমন্ত্রী মোদীর ব্যক্তিগত কূটনৈতিক সাফল্যেরই প্রতিফলন।