নিলামের দ্বিতীয় দিনেই বাজিমাৎ! ১.১৭ গুণ সাবস্ক্রাইবড এসবিআই ফান্ডস ম্যানেজমেন্টের আইপিও

দেশের বৃহত্তম অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ‘এসবিআই ফান্ডস ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড’-এর আইপিও (IPO) ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বুধবার, নিলামের দ্বিতীয় দিনেই এই পাবলিক ইস্যুটি সম্পূর্ণরূপে সাবস্ক্রাইব হয়েছে। এনএসই-র তথ্য অনুযায়ী, বেলা ১১:২১ পর্যন্ত ইস্যুটি ১.১৭ গুণ ওভারসাবস্ক্রাইব হয়েছে।

সাবস্ক্রিপশনের বর্তমান চিত্র
আইপিও-টির মোট ১২,৪৫,৬৩,৫৩৬টি শেয়ারের বিপরীতে প্রায় ১৪,৫১,৩৩,৯২৪টি শেয়ারের জন্য বিড জমা পড়েছে। বিশেষ করে অ-প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (NII) মধ্যে ব্যাপক চাহিদা দেখা গেছে, যেখানে ২.৬৫ গুণ ওভারসাবস্ক্রিপশন হয়েছে। খুচরা বিনিয়োগকারীদের কোটা ৯৭ শতাংশ এবং কিউআইবি (QIB) অংশ ৮ শতাংশ পূরণ হয়েছে। উল্লেখ্য, আইপিওটি ১৬ জুলাই বন্ধ হবে এবং এর প্রাইস ব্যান্ড নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪৫-৫৭৪ টাকা।

বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের ভরসা
আইপিও-র আগে অ্যাঙ্কর রাউন্ডে ২,৬৬৩ কোটি টাকা সংগৃহীত হয়েছে। এখানে গোল্ডম্যান স্যাক্স, ব্ল্যাকরক, নরজেস ব্যাংকের মতো বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি এলআইসি, এইচডিএফসি এমএফ এবং আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়ালের মতো দেশীয় শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ করেছে।

ওএফএস (OFS) ও কোম্পানির মালিকানা
এই পুরো আইপিওটি স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (SBI) এবং আমুন্ডির (Amundi) অফার ফর সেল (OFS)। এসবিআই তাদের ৬.৩ শতাংশ এবং আমুন্ডি ৩.৭ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করছে। এর ফলে তালিকাভুক্তির পর এসবিআই-এর অংশীদারিত্ব ৫৫.৪৬ শতাংশে নেমে আসবে। উল্লেখ্য, প্রায় ১,৮৮০ কোটি টাকার প্রি-আইপিও প্লেসমেন্টের পর বর্তমান ইস্যুটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজারের ইঙ্গিত: জিএমপি (GMP) ও ব্রোকারদের পরামর্শ
গ্রে মার্কেটে (GMP) শেয়ার প্রতি প্রায় ৯৩ টাকা প্রিমিয়াম চলছে, যা সর্বোচ্চ প্রাইস ব্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিনিয়োগকারীরা লিস্টিং গেইন পেতে পারেন।

ব্রোকারেজ টিপস: নির্মল ব্যাং এবং আনন্দ রাঠির মতো সংস্থাগুলো এই আইপিও-কে ‘সাবস্ক্রাইব’ রেটিং দিয়েছে। এসবিআই-এর শক্তিশালী ব্র্যান্ড ভ্যালু, ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এবং ধারাবাহিক মুনাফাকেই এর মূল শক্তির জায়গা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আর্থিক পারফরম্যান্স
এসবিআই ফান্ডস ম্যানেজমেন্টের বিগত তিন বছরের আর্থিক ফলাফল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। ২০২৬ অর্থবর্ষে কোম্পানির মুনাফা (PAT) ৩,০৬৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া, কোম্পানিটির EBITDA মার্জিন ৭৯.১ শতাংশ এবং RoE ৫১.৪ শতাংশ, যা এই শিল্পে তাদের শীর্ষস্থানে ধরে রেখেছে।

বিনিয়োগের আগে আপনার আর্থিক উপদেষ্টা বা ব্রোকারের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *