সরকারের সমালোচনা করা মানেই দেশদ্রোহ নয়! জামিন পেলেন শরদ পাওয়ারের ঘনিষ্ঠ নেতা

দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় সরকারের কাজ নিয়ে সমালোচনা করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এই পর্যবেক্ষণেই মঙ্গলবার শরদ পাওয়ার অনুসারী এনসিপি (NCP) নেতা মহাদেব বালগুড়েকে জামিন দিল পুণের একটি আদালত। বালগুড়ে এনসিপি-র সোশ্যাল মিডিয়া শাখার মহারাষ্ট্র সভাপতি। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিতর্কিত মামলায় আদালত স্পষ্ট করেছে যে, মুখ্যমন্ত্রী বা সরকারের সমালোচনা করাকে কোনোভাবেই ‘দেশদ্রোহ’ বা ‘দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে গণ্য করা যায় না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ
অতিরিক্ত সেশন জজ বিডি কুলকার্নি তার রায়ে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকার ও সরকারি প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যা জনস্বার্থের আলোচনার বিষয়। আদালত আরও জানায়, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য বা অখণ্ডতাকে বিপন্ন করার কোনো প্রমাণ নথিতে পাওয়া যায়নি।

এই মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৫২ ধারার প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। বিচারক বলেন, “এই পর্যায়ে ১৫২ ধারা প্রয়োগ করা মোটেও যথাযথ নয়।” যেহেতু মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ এবং চার্জশিট জমা পড়েছে, তাই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আর পুলিশি হেফাজতের প্রয়োজন নেই বলে মনে করে আদালত।

জামিনের শর্তাবলী
২৫,০০০ টাকার ব্যক্তিগত মুচলেকায় মহাদেব বালগুড়েকে জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে আদালত কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছে:

অভিযুক্তকে এক বা একাধিক জামিনদার পেশ করতে হবে।

সাক্ষীদের প্রভাবিত করা বা প্রমাণের সাথে কোনো ধরনের কারচুপি করা যাবে না।

তদন্তকারী অফিসারকে নিজের বর্তমান ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর জানাতে হবে।

আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি দেশ ছাড়তে পারবেন না।

ঠিক কী ছিল মামলা?
গত এপ্রিল মাসে মহাদেব বালগুড়েকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের ‘মর্ফ’ করা বা বিকৃত ছবি পোস্ট করেছেন এবং নকশালদের প্রতি সহানুভূতিমূলক বক্তব্য রেখেছেন। এই পোস্টের প্রেক্ষিতেই তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৫২ ধারা ও অন্যান্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।

দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকার পর আদালতের এই রায়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন এনসিপি (শরদ পাওয়ার) শিবির। আইনি মহলের মতে, সরকারের সমালোচনা বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের জেরে দেশদ্রোহিতার মতো কঠোর আইন প্রয়োগের বিরুদ্ধে আদালতের এই রায় একটি বড় নজির হয়ে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *