এআই-এর হাতেই ছাঁটাইয়ের তালিকা! অসুস্থ কর্মীদের টার্গেট করল মেটা? তোলপাড় বিশ্বজুড়ে

প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আমাদের কাজের জগতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু সেই এআই-ই যদি কর্মজীবনের জন্য ‘মরণফাঁদ’ হয়ে ওঠে? এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল সংস্থা মেটা (Meta)-র বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সংস্থাটি এআই ব্যবহার করে অসুস্থ বা ছুটিতে থাকা কর্মীদের শনাক্ত করেছে এবং তাঁদেরই ছাঁটাইয়ের তালিকায় সবার উপরে রেখেছে।
অভিযোগের মূলে কী?
মেটার ২৬ জন প্রাক্তন কর্মী সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তাদের দাবি, গত মে মাসে সংস্থাটি যে ৮,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করেছিল, তার মধ্যে পদ্ধতিগতভাবে এমন কর্মীদের বেছে নেওয়া হয়েছে যারা চিকিৎসা, মাতৃত্বকালীন বা পারিবারিক কারণে ছুটিতে ছিলেন।
এআই-এর মাধ্যমে ‘টার্গেট’!
আবেদনকারী কর্মীদের অভিযোগ, মেটা তাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের জন্য এমন এক অভ্যন্তরীণ এআই সিস্টেম ব্যবহার করেছে, যা কর্মীদের কী-স্ট্রোক এবং কাজের সক্রিয়তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে। এআই-এর তৈরি করা এই র্যাঙ্কিংয়ে যারা শারীরিক অসুস্থতা, গর্ভাবস্থা বা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ছুটিতে ছিলেন, তাদের স্কোর অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে দেখানো হয়েছে। অভিযোগ, এই পুরো প্রক্রিয়ায় আইনত বাধ্যতামূলক ‘ছুটি-নিরপেক্ষ পর্যালোচনা’র তোয়াক্কা করেনি মেটা।
একজন কর্মীর অভিজ্ঞতায় ভয়ংকর সত্য
মামলাকারী এক কর্মী জানিয়েছেন, তিনি গুরুতর অসুস্থতা ও প্রতিবন্ধকতার কথা জানানোর পরই তাঁকে পরোক্ষভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ব্যবস্থাপক তাঁকে সতর্ক করেছিলেন যে, ছুটির আবেদন করলে তাঁকে ছাঁটাইয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। বাস্তবে ঠিক সেটাই ঘটেছে।
মেটার সাফাই
এদিকে যাবতীয় অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে মেটা কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, “কর্মী ব্যবস্থাপনা এবং ছাঁটাই সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত মানুষই নেয়, কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নয়।” মেটার দাবি, ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের ব্যক্তিগত কারণ বা ছুটির সঙ্গে তাদের কর্মদক্ষতার কোনো সম্পর্ক নেই।
কেন এই মামলা গুরুত্বপূর্ণ?
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলাটি কেবল মেটার বিরুদ্ধে নয়, এটি কর্মক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন তুলে দিল। প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে কর্পোরেট সংস্থাগুলো কীভাবে কর্মীদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে এবং অ্যালগরিদম কীভাবে পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
এখন দেখার বিষয়, আদালতের রায়ে মেটার এই ‘এআই-ভিত্তি’র সিদ্ধান্তের বৈধতা প্রমাণিত হয়, নাকি এটি বড় কোনো কর্পোরেট ষড়যন্ত্রের মুখোশ খুলে দেয়।