বেঙ্গালুরুতে জিম প্রশিক্ষককে ‘অপহরণ’! সিসিবি অফিসার সেজে ৫ লক্ষ টাকা দাবি, অতঃপর…

বেঙ্গালুরুর বুকে এক ভয়াবহ অপহরণ ও তোলাবাজির ঘটনা প্রকাশ্যে এল। সিসিবি (সেন্ট্রাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ) অফিসার সেজে এক জিম প্রশিক্ষককে অপহরণ করে ৫ লক্ষ টাকা আদায়ের চেষ্টা করছিল কুখ্যাত এক অপরাধী চক্র। শেষপর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়ল মূল হোতা ত্রিভেন কুমার ওরফে তিরুমালাসহ পাঁচজন।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী জিম প্রশিক্ষক মিথুল একদিন অটোরিকশায় যাচ্ছিলেন। সেই সময় অভিযুক্তরা পথ আটকে নিজেদের সিসিবি অফিসার পরিচয় দেয় এবং জোর করে তাকে একটি গাড়িতে তুলে নেয়। মিথুলের অভিযোগ, গাড়িতে তোলার পর অভিযুক্তরা দাবি করে যে, সে ৫০০ কেজি গাঁজা অর্ডার করেছে। তার ফোন ও ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি এলএসডি স্ট্রিপ হাতে নিয়ে তার ছবি তোলে তারা। এরপর এনডিপিএস আইনের ভয় দেখিয়ে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়।

সুনিপুণ নাটক ও পুলিশের অভিনয়:
অপহরণকারীদের পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত নিখুঁত। পুরো বিষয়টি যে একটি ‘অফিসিয়াল অপারেশন’, তা প্রমাণ করতে তারা মিথুলকে জে.পি. নগর থানার সামনে নিয়ে যায়। দুজন অভিযুক্ত থানায় ঢুকে কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে এসে ভুক্তভোগীকে বলে, “স্যার এখন ব্যস্ত আছেন।” এভাবে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন প্রান্তে মিথুলকে ঘুরিয়ে ভয় দেখানো হয় যে, টাকা না দিলে তাকে মাদক পাচারের দায়ে জেলে পাঠানো হবে।

তদন্ত ও গ্রেপ্তার:
গত ২২ জুন শঙ্করপুর থানায় এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় সিসিবির হাতে। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত ত্রিভেন কুমার, রঞ্জিত রাও, নমিত, প্রেম সাই এবং শান্তাকুমারকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, ধৃতদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে এর আগেও হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ডাকাতির মতো একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। এই চক্রটি ঠিক কতজনকে একইভাবে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছে, তা খতিয়ে দেখতে অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *