২১ জুলাইয়ের সভা নিয়ে হাইকোর্টে ধাক্কা তৃণমূলের! ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে অনুমতি নাকচ

আগামী ২১ জুলাইয়ের শহীদ দিবস পালন নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হলেও, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সেখানে সভার অনুমতি দিতে সরাসরি অস্বীকার করেছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন তৃণমূল কংগ্রেসকে নতুন কোনো বিকল্প স্থানের সন্ধানে নামতে হবে।
কেন অনুমতি মিলল না?
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা আয়োজন করলে শহরের অন্যতম ব্যস্ত উত্তরমুখী মূল রাস্তাটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়াতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আদালত ওই স্থানটিকে উপযুক্ত বলে মনে করছে না। তাই আদালত সব পক্ষকে সভার জন্য অন্য কোনো বিকল্প জায়গা ভেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছে।
আদালতে দুই পক্ষের যুক্তি:
শুনানি চলাকালীন তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ১৯৯৩ সাল থেকে তাঁরা ঐতিহ্য মেনেই এই স্থানে সভা করে আসছেন। তাঁর দাবি, এ বছর ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষের জমায়েত হতে পারে। সভার স্থান হিসেবে হাজরার প্রস্তাব উঠলেও তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, সেক্ষেত্রে হাওড়া স্টেশন থেকে আসা দূরপাল্লার কর্মীদের পৌঁছাতে সমস্যা হবে।
অন্যদিকে, রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র জানান, পুলিশ ব্রিগেডের ময়দানে সভার অনুমতি দিতে রাজি। তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ মিনার ও গান্ধী মূর্তির সামনে ইতিমধ্যেই অন্যান্য সংগঠনের সভার অনুমতি রয়েছে। তাই ধর্মতলার ভিড়ের চাপ সামলাতে স্থান পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ:
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এদিন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলেছে, তৃণমূলেও ফ্র্যাকশন তৈরি হয়েছে।” পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে ধর্মতলার মূল চত্বর বন্ধ না করে অন্যত্র সভার কথা চিন্তাভাবনা করা উচিত বলে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। আদালত এই বিষয়ে রাজ্যকে পরবর্তী অবস্থান জানিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছে।
মামলার পরবর্তী শুনানি দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে। এখন দেখার বিষয়, শাসকদল ভিক্টোরিয়া হাউসের বিকল্প হিসেবে ডোরিনা ক্রসিং, মেট্রো চ্যানেল নাকি অন্য কোনো স্থানকে বেছে নেয়।