‘মফস্বলের এমএমএস’ দিয়ে ব্ল্যাকমেইল! ‘লক আপ’-এ নিজের জীবনের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা ফাঁস করলেন শিল্পা

জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘লক আপ: সচ ইয়া সাজা’ (Lock Upp: Sach Yaa Sazaa)-র মঞ্চে বসে নিজের জীবনের কঠিন দিনগুলোর কথা শেয়ার করলেন অভিনেত্রী শিল্পা শিন্ডে। ২০১৫-১৬ সালে ‘ভাবিজি ঘর পার হ্যায়’ শো থেকে বাদ পড়ার পর তিনি যে চরম হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন, তা শোনে স্তম্ভিত অনুরাগীরা।
ব্ল্যাকমেইল ও এমএমএস আতঙ্ক
শিল্পা জানান, শো থেকে বের করে দেওয়ার পর এক সাংবাদিক তাঁকে একটি ভিডিও ক্লিপ পাঠিয়ে দাবি করেন, সেটি তাঁর। ভয়ংকর সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে শিল্পা বলেন, “ভিডিওটি ডাউনলোড হওয়ার সময় আমি ভয়ে জমে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম হয়তো কোনো চেঞ্জিং রুমের ভিডিও লিক হয়েছে। পরে দেখি, ঝাপসা একটি ভিডিও যেখানে এক দম্পতি অন্তরঙ্গ অবস্থায়। আমি ওই সাংবাদিককে সাফ জানিয়েছিলাম, আমি জানি আমি কার সঙ্গে সম্পর্কে ছিলাম, তাই এটা আমার ভিডিও হতেই পারে না।”
অভিনেত্রীর দাবি, ব্ল্যাকমেইল করার জন্য হিন্দি পর্নোগ্রাফিক ভিডিওর ক্লিপ এডিট করে তাঁর নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। শেষপর্যন্ত সাইবার ক্রাইম থানায় ৬-৭ ঘণ্টা বসে তিনি এর সুরাহা করেছিলেন। এমনকী তাঁর মা ও বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরাও সেই ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যা তাঁকে মানসিকভাবে গভীরভাবে ভেঙে দিয়েছিল।
মিথ্যা মামলার স্বীকারোক্তি ও বিতর্ক
তবে এমএমএস কাণ্ডের চেয়েও বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে শিল্পার আরেকটি স্বীকারোক্তি। তিনি জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে ‘ভাবিজি ঘর পার হ্যায়’-এর প্রযোজক সঞ্জয় কোহলির বিরুদ্ধে করা যৌন হেনস্থার মামলাটি ছিল পুরোপুরি ‘বানোয়াট’। বকেয়া টাকা আদায় এবং এক্সক্লুসিভ চুক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য তিনি সেই সময় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
তিনি আরও জানান, ‘বিগ বস ১১’-এ অংশ নেওয়ার সময়ও তাঁকে আটকানোর জন্য বিভিন্ন আইনি জটিলতায় ফেলা হয়েছিল। জামিন নিয়ে তবেই তিনি বিগ বসের ঘরে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
আইনজীবীদের মত
শিল্পার এই স্বীকারোক্তির পর নেটপাড়ায় উঠেছে সমালোচনার ঝড়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে বা ব্যবসায়িক চুক্তির বেড়াজাল কাটাতে যৌন হেনস্থার মতো সংবেদনশীল বিষয়ের অপব্যবহার করা কতটা নৈতিক? আইনজীবীদের একাংশ মনে করেন, এই ধরণের পদক্ষেপ আইনি লড়াইকে দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল করে দেয় এবং প্রকৃত ভুক্তভোগীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শিল্পা শিন্ডে বর্তমানে ‘ভাবিজি ঘর পার হ্যায় ২.০’-তে পুনরায় ‘অঙ্গুরি ভাবি’র চরিত্রে ফিরে এসেছেন। তবে তাঁর এই স্বীকারোক্তি তাঁকে নতুন কোনো আইনি বিপদে ফেলবে কি না, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।