সেক্টর ফাইভের পর কি এবার গড়িয়াহাট? উচ্ছেদ আতঙ্ক হকারদের মনে, জানুন আসল সত্য

সল্টলেক সেক্টর ফাইভের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের কড়া উচ্ছেদ অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তপ্ত কলকাতার শপিং হাব—গড়িয়াহাট। ফুটপাত আটকে ব্যবসা এবং আগুন জ্বালিয়ে রান্নার মতো নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকির কারণে সেক্টর ফাইভে বুলডোজার চালানোয়, স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এবার গড়িয়াহাটের হকারদের ওপর কোপ পড়তে চলেছে?
পুজোর আগে যখন কেনাকাটার জন্য গড়িয়াহাট কার্যত আমজনতা থেকে তারকাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়, ঠিক তখনই এই জল্পনায় শোরগোল পড়েছে এলাকায়। দীর্ঘ ৪০-৫০ বছর ধরে এখানে রুজি-রোজগার করা প্রায় ২,৭০০ হকার এখন সিঁদুরে মেঘ দেখছেন। তবে বাস্তব চিত্রটা ঠিক কী?
হকারদের বক্তব্য ও পুলিশের হুঁশিয়ারি
গড়িয়াহাটের হকার ইউনিয়ন সূত্রে খবর, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো এলাকা উচ্ছেদের কোনও নোটিশ দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, গড়িয়াহাট পুরোপুরি খালি করে দেওয়ার খবরটি আপাতত ভিত্তিহীন। তবে, প্রশাসন ও পুলিশের কড়া নজরদারির বিষয়টি অস্বীকার করার উপায় নেই।
হকারদের একটি অংশের কথায়, “পুরো এলাকা নয়, বরং নিয়ম ভেঙে যারা ফুটপাত ছাড়িয়ে গাড়ি চলার মূল রাস্তা দখল করে বসেছেন, তাদের বিরুদ্ধেই কড়া পদক্ষেপ হতে পারে। এমন কিছু দোকান চিহ্নিত করা হয়েছে যারা রাস্তা দখল করে ট্রাফিক জ্যামের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”
ইতিমধ্যেই গড়িয়াহাটের পুলিশ দোকানদারদের কড়া বার্তা দিয়েছে। ফুটপাতের ওপর লোহার রড ও ত্রিপল দিয়ে স্থায়ী বা অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করে যারা রাস্তা দখল করে রেখেছেন, তাদের সেই অংশ অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম মেনে ব্যবসা না করলে ভবিষ্যতে কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে।
অর্থাৎ, পুজোর বাজারে গড়িয়াহাটে কেনাকাটায় কোনো বাধা না আসলেও, রাস্তার দখলদারি নিয়ে প্রশাসন যে এবার কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়, তা স্পষ্ট।
সম্পাদকীয় মন্তব্য: প্রতিবেদনটিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চলা উদ্বেগ এবং প্রশাসনের কঠোর মনোভাবের ভারসাম্য রাখা হয়েছে। উৎসুক পাঠকদের জন্য ‘উচ্ছেদ’ বনাম ‘নিয়ন্ত্রণ’—এই বিভাজনটি স্পষ্ট করা হয়েছে যাতে বিভ্রান্তি না ছড়ায়।