‘পুলিশ চালালে গুলি, খাটল কংগ্রেস, সভা তৃণমূলের!’ একুশে জুলাইয়ের ইতিহাস নিয়ে বিস্ফোরক সায়ন্তন বসু

একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবস পালনকে কেন্দ্র করে চলতি বছর রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন পরিস্থিতি। এক অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করে দাবি করলেন, একুশে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটি এখন ভিন্ন পথে প্রবাহিত।

সায়ন্তন বসুর কটাক্ষ:
বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু তাঁর বক্তব্যে বলেন, “গুলি করেছিল তৎকালীন সিপিএম সরকারের পুলিশ, মার খেয়েছিলেন কংগ্রেস কর্মীরা, আর আজ সভা করছে তৃণমূল!” ইতিহাসের এই অসংগতি তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, গত কয়েক দশকে আন্দোলনের মূল শক্তি ও ত্যাগকে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে।

তিন টুকরো একুশে জুলাই:
সায়ন্তন বসুর কথায়, এবার একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবস পালন কার্যত তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, যা শহিদ পরিবারগুলোর কাছেও বিভ্রান্তিকর। তিনি বলেন:

বিভ্রান্তির শিকার শহিদ পরিবার: শহিদ পরিবারগুলো এখন বুঝে উঠতে পারছে না তারা কোন মঞ্চে যাবে।

ভেন্যু নিয়ে ধোঁয়াশা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস এতদিন যে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে জমায়েত করত, এবার সেখানে সভা করা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ভেন্যু সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল কলকাতা হাইকোর্টে মামলার শুনানি হওয়ার কথা।

মন্দের ভালো: সায়ন্তনবাবু কটাক্ষ করে বলেন, তৃণমূলের একটি অংশ (ঋতব্রত গোষ্ঠী) এবং প্রদেশ কংগ্রেস আলাদা আলাদা জায়গা (মেয়ো রোড ও শহিদ মিনার) পেলেও, মূল তৃণমূলের সমাবেশের স্থান নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বিজেপির অবস্থান:
এই পুরো বিশৃঙ্খলার মধ্যে রাজ্য বিজেপি বেশ তৃপ্তির হাসি হাসছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। সায়ন্তন বসুর বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, বিরোধী শিবিরের এই ভাঙন ও বিশৃঙ্খলা বিজেপিকে কিছুটা হলেও সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে। বিরোধীদের ‘মেঘের আড়ালে মেঘনাদ’ তকমা দিয়ে সায়ন্তন বসু কার্যত বুঝিয়ে দিলেন, শহিদ দিবসের এই রাজনৈতিক মেরুকরণ আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির অস্থিরতা আরও বাড়াবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *