ডাস্টারকে টেক্কা দিতে হাজির নিসানের এই ‘জায়ান্ট’ এসইউভি! সাড়ে ১০ লাখেই বাজিমাত, কেনার আগে রিভিউ দেখে নিন

ভারতের কমপ্যাক্ট এসইউভি (SUV) বাজারে রেনোঁ ডাস্টার (Renault Duster)-এর একাধিপত্যে থাবা বসাতে এবার এন্ট্রি নিল বহু প্রতীক্ষিত নিসান টেকটন (Nissan Tekton)। সাড়ে ১০ লক্ষ টাকার আকর্ষণীয় প্রারম্ভিক মূল্যে (এক্স-শোরুম) এই গাড়িটি বাজারে আসতেই কার-প্রেমীদের মধ্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আপনিও যদি ডাস্টার আর টেকটনের মধ্যে কনফিউজড থাকেন, তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চোখ রাখুন নিসান টেকটনের এই ইন-ডেপ্ত (In-depth) রিভিউতে।

১. রাজকীয় লুক ও মাসকুলার ডিজাইন (Looks & Road Presence)
লুক এবং ডিজাইনের দিক থেকে নিসান টেকটন প্রথম দর্শনেই আপনার নজর কাড়বে। কার এক্সপার্টদের মতে, নিসানের আন্তর্জাতিক স্তরের বিখ্যাত এসইউভি ‘প্যাট্রোল’ (Nissan Patrol)-এর ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়েছে এই গাড়ি। এর চওড়া ও মাসকুলার বডি রাস্তায় চলার সময় অন্যরকম আভিজাত্য এনে দেয়। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে রয়েছে ২১২ মিমি (212mm)-র দুর্দান্ত গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স। এর ফলে ভারতের ভাঙাচোরা এবং গর্তে ভরা রাস্তায় এই গাড়ি অত্যন্ত মসৃণ ও নিশ্চিন্তে চালানো যাবে।

২. আধুনিক কেবিন ও প্রিমিয়াম ইন্টেরিয়র (Interior & Features)
গাড়ির ভেতরে পা রাখলেই বোঝা যাবে প্রিমিয়াম কোয়ালিটির কাজ। নিসান এর কেবিনে কালার স্কিম ও মেটেরিয়ালের ব্যবহারে একটি আধুনিক ও আভিজাত্যের ছোঁয়া এনে দিয়েছে। ইনফোটেইনমেন্টের জন্য বড় টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে থাকার পাশাপাশি, গাড়ি চালানোর সময় সুবিধার জন্য রাখা হয়েছে অতি প্রয়োজনীয় ফিজিক্যাল বাটনও। ফিচার্সের দিক থেকে এটি সেগমেন্টের বাকি গাড়িগুলিকে কড়া টক্কর দিচ্ছে।

৩. পকেট ফ্রেন্ডলি ‘ভ্যালু ফর মানি’ প্যাকেজ (Pricing)
নিসান টেকটনের সবথেকে বড় ইউএসপি (USP) হলো এর সাইজ এবং দামের অনুপাত। আকারে প্রকাণ্ড ও জায়ান্ট লুক হওয়া সত্ত্বেও, অন্যান্য কমপ্যাক্ট এসইউভিগুলোর তুলনায় এর বেস মডেলের দাম বেশ সাধ্যের মধ্যে রাখা হয়েছে। কম খরচে প্রিমিয়াম এসইউভি-র ফিল পেতে এটি একটি নিখুঁত ‘ভ্যালু ফর মানি’ প্যাকেজ হতে পারে।

৪. ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স ও গিয়ারবক্স (Engine Options)
এই গাড়ির মূল শক্তি লুকিয়ে আছে এর বনেটের নিচে। এতে দেওয়া হয়েছে একটি শক্তিশালী ১.৩ লিটার টার্বো পেট্রোল ইঞ্জিন, যা এই সেগমেন্টের অন্য যে কোনও গাড়ির চেয়ে বেশি শক্তি (Power) ও টর্ক তৈরি করতে পারে। এর সঙ্গে থাকা ওয়েট-ক্লাচ ডিসিটি (DCT) অটোমেটিক গিয়ারবক্সের পারফরম্যান্স ভীষণ স্মুথ। এছাড়া বাজেট ক্রেতাদের জন্য রয়েছে ১.০ লিটার টার্বো পেট্রোল ইঞ্জিনের অপশনও।

সাবধান! কেনার আগে মাথায় রাখুন এই ৩টি খামতি (Cons to Keep in Mind)
যেমন প্রতিটি গাড়ির ভালো দিক থাকে, তেমনই নিসান টেকটনের কিছু খামতিও রয়েছে যা আপনার জানা দরকার:

মাইलेज কম পাওয়ার আশঙ্কা: এই গাড়িতে কোনও হাইব্রিড (Hybrid) প্রযুক্তি দেওয়া হয়নি। যেহেতু কেবল টার্বো পেট্রোল ইঞ্জিনই মিলবে, তাই খুব বেশি মাইলেজ আশা না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ডিজেল বা সাধারণ পেট্রোলের অপশন নেই: ভারতের বাজারে একটা বড় অংশের ক্রেতা সাধারণ ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল বা ক্রুজিংয়ের জন্য ডিজেল ইঞ্জিন পছন্দ করেন। টেকটনে কিন্তু এই দুটির একটিও নেই।

পিছনের সিটের স্পেস ও অটোমেটিকের অভাব: প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু গাড়ির তুলনায় এর পিছনের সিটের লেগরুম বা স্পেস সামান্য কম মনে হতে পারে। এছাড়া, যারা ১.০ লিটার কম বাজেটের ইঞ্জিনটি নিতে চান, তাঁদের ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে, কারণ এতে কোনও অটোমেটিক অপশন দেওয়া হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *