পাঠ্যক্রমে বদল! এবার থেকে স্কুলে শেখানো হবে ‘গুড টাচ-ব্যাড টাচ’, বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

শিশুদের সুরক্ষা এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক সচেতনতা বাড়াতে দেশের স্কুল পাঠ্যক্রমে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে হাঁটছে কেন্দ্র। সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, এবার স্কুল-কলেজের সিলেবাসে যুক্ত হতে চলেছে ‘কমপ্রিহেনসিভ সেক্স এডুকেশন’ (Comprehensive Sex Education) বা জীবনশৈলী শিক্ষা। মূলত শিশু নির্যাতন রোধ এবং সঠিক সচেতনতা গড়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
কী কী থাকছে নতুন এই পাঠক্রমে?
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ২৬ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন পাঠক্রমে যে বিষয়গুলিতে জোর দেওয়া হবে:
নিরাপত্তার পাঠ: গুড টাচ (Good Touch) ও ব্যাড টাচ (Bad Touch)-এর পার্থক্য এবং শরীরের পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা।
শারীরিক পরিবর্তন: বয়ঃসন্ধিকালে শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রদান।
সম্মতি (Consent): নিজের শরীরের ওপর অধিকার এবং পারস্পরিক সম্মতির গুরুত্ব বোঝা।
ডিজিটাল সুরক্ষা: ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় সাইবার হয়রানি থেকে বাঁচার উপায়।
সহায়তা: শিশু নির্যাতন বা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে কীভাবে সাহায্য চাইতে হবে, তা শেখানো।
স্কুলে কীভাবে পড়ানো হবে?
বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, স্কুলে প্রতি সপ্তাহে অন্তত দু’দিন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বিশেষ সচেতনতা ক্লাস নেওয়া হবে। এই বিষয়গুলো পড়ানোর জন্য শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কারণ, শিশুদের বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সহজ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিষয়টি বোঝানো জরুরি।
অভিভাবকদেরও সচেতন করা হবে:
নতুন এই পরিকল্পনা শুধু পড়ুয়াদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সন্তানদের শরীর ও মনের পরিবর্তন সম্পর্কে বাবা-মাকেও সঠিক ধারণা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে কোনো সমস্যায় সন্তান নিঃসঙ্কোচে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলতে পারে। এনসিইআরটি (NCERT) জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ অনুযায়ী এই পাঠক্রমের কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করেছে।
কেন এই উদ্যোগ?
ভারতে যৌন শিক্ষা নিয়ে এখনো অনেক সামাজিক সংকোচ রয়েছে। সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক শিশু বিপদের মোকাবিলা করতে পারে না বা কাউকে কিছু জানাতেও ভয় পায়। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, শুধু নবম বা দশম শ্রেণি নয়, একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিশুদের বয়স অনুযায়ী নিরাপত্তা ও সচেতনতার শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।