জীবন বাজি রেখে নিট আন্দোলনে সোনম ওয়াংচুক, অনশন তোলার কাতর আবেদন মহুয়া মৈত্রের

নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস বিতর্কে উত্তাল দেশ। কেন্দ্রের নীরবতার প্রতিবাদে দিল্লির যন্তরমন্তরে টানা ১৭ দিন ধরে আমরণ অনশনে বসেছেন লাদাখের বিশিষ্ট সমাজকর্মী তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। লাগাতার এই অনশনের জেরে সোনমের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ।

উদ্বিগ্ন মহুয়া মৈত্র
সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার খবর পেয়ে মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্ট করেছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সাংসদ লেখেন, “সরকার আপনার এবং কোটি কোটি যুবকের জীবন নিয়ে ভাবিত নয়। কিন্তু আমাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য আপনার বেঁচে থাকা জরুরি। দয়া করে অনশন প্রত্যাহার করুন এবং লড়াই চালিয়ে যান।” বিচারের দাবিতে যুবসমাজকে যেভাবে তিনি ঐক্যবদ্ধ করেছেন, তাতে তিনি সফল বলেও মন্তব্য করেছেন মহুয়া।

উদ্বেগজনক শারীরিক পরিস্থিতি
আন্দোলনকারী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ সূত্রে খবর, টানা অনশনে সোনম ওয়াংচুকের ওজন প্রায় ৮.২ কেজি কমে গেছে। তাঁর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নেমে দাঁড়িয়েছে ডেসিলিটারে মাত্র ৬৭ মিলিগ্রামে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রক্তচাপ ১০৭/৭০-এ নেমেছে। চরম অসুস্থতা সত্ত্বেও নিজের দাবিতে অনড় রয়েছেন এই সমাজসৈনিক।

পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশিষ্টরা
সোমবার যন্তরমন্তরের অনশন মঞ্চে সোনমের পাশে দাঁড়িয়ে সংহতি প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট লেখিকা অরুন্ধতী রায়, অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, রত্না পাঠক শাহ এবং অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ। দেশের এই বরেণ্য ব্যক্তিত্বরাও সোনমকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই লড়াই সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই।

কী দাবি আন্দোলনকারীদের?
নিট পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন থেকে আন্দোলন শুরু করে ‘ককরোচ’ দল। কেন্দ্রের তরফে কোনো সদর্থক সাড়া না মেলায় গত ২৮ জুন থেকে আমরণ অনশনে বসেন সোনম। আন্দোলনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দীপ বলেন, “সরকারের উচিত মানুষের জীবনকে অহংকারের লড়াই হিসেবে না দেখা।”

আগামী দিনের রণকৌশল
সোনম ওয়াংচুক দেশবাসীকে বার্তা দিয়ে বলেছেন, “আমি গান্ধী বা কোনো নায়ক নই। নিজের নায়ক নিজে হোন।” তবে আন্দোলন স্তিমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। উল্টে, আগামী ২০ জুলাই এই আন্দোলনের পরিধি আরও বিস্তৃত করে সংসদ অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, সরকারের তরফ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায় কিনা, নাকি আন্দোলনের আগুন আরও তীব্র হয়।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *