চলন্ত ট্রেনে চলল এলাহি আয়োজন! রুদ্রাভিষেক দেখে অবাক নেটদুনিয়া, কী জানাল রেলওয়ে?

সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে অজানাকে জানার আগ্রহ এখন তুঙ্গে। সম্প্রতি ট্রেনের কামরায় ‘সুহাগরাত’-এর সাজসজ্জার রেশ কাটতে না কাটতেই, নতুন একটি ভিডিও ঘিরে তুুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, চলন্ত ট্রেনের মেঝেতে রীতিমতো हवन কুণ্ড জ্বালিয়ে রুদ্রাভিষেক করছেন এক পুরোহিত। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনদের একাংশ।
আসলে কী ঘটেছিল?
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসে উত্তর রেলওয়ে। রেলের তরফ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এটি কোনো সাধারণ যাত্রী সাধারণ বগি বা এসি কোচের ঘটনা নয়। আসলে এটি ছিল একটি ‘প্রাইভেট স্যালুন কোচ’। বিশেষ যাত্রার জন্য এক যাত্রী এই পুরো কোচটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
৩ লক্ষ টাকার বুকিং!
রেলসূত্রে খবর, গত ৮ জুলাই IRCTC-এর মাধ্যমে এই স্যালুন কোচের বুকিং করা হয়েছিল। কমার্শিয়াল বুকিংয়ের মাধ্যমে এর জন্য ৩ লক্ষ ৮ হাজার ৫৮০ টাকা অগ্রিম জমা দেন যাত্রী। ১০ জুলাই নিউ দিল্লি থেকে মুম্বাইগামী পশ্চিম এক্সপ্রেসে (১২৯২৬) কোচটি জুড়ে দেওয়া হয়। রেল স্পষ্ট জানিয়েছে, সমস্ত নিরাপত্তা বিধি মেনেই এই ভ্রমণ সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
কী এই স্যালুন কোচ?
রেলের এই বিশেষ কোচগুলোকে ‘ট্র্যাকের ওপর ফাইভ স্টার হোটেল’ বললেও ভুল হবে না। সাধারণত উচ্চপদস্থ রেল আধিকারিকদের পরিদর্শনের জন্য এই কোচগুলো ব্যবহৃত হয়। তবে এখন সাধারণ মানুষও ভাড়ার বিনিময়ে এটি বুক করতে পারেন। বিলাসবহুল দুটি বেডরুম, লিভিং এরিয়া, ডাইনিং স্পেস, আধুনিক বাথরুম এবং নিজস্ব রান্নাঘর—সব সুবিধাই থাকে এই কোচে।
যদিও রেলের এই সাফাইয়ের পরেও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক থামছে না। অনেকেরই প্রশ্ন, এই ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন কি চলন্ত ট্রেনে নিরাপদ? আপাতত রেলের এই ব্যাখ্যামূলক বিবৃতিতেই শোরগোল কিছুটা থিতু হয়েছে।