নেপালে নতুন সরকারের শাসনকাল! শেয়ার বাজারে রক্তক্ষরণ, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র হতাশা!

নেপালে নতুন সরকার গঠনের পর অর্থনীতির মোড় ঘোরার আশায় বুক বেঁধেছিলেন সাধারণ মানুষ ও বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু বাস্তবের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাস ধরে নেপালের শেয়ার বাজার (NEPSE) এক ভয়াবহ মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
বাজারের করুণ দশা:
মার্চ মাসের শেষে বালেন শাহ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শেয়ার বাজারের সূচক যেন নিম্নমুখী। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী:
বড় পতন: গত পাঁচ মাসে নেপসে (NEPSE) সূচক ৩৮০ পয়েন্টের বেশি হারিয়েছে।
লেনদেনের হিসাব: শাহ সরকারের মেয়াদে গত ৭৩টি ট্রেডিং দিনের মধ্যে ৪৭ দিনই বাজার ছিল নিম্নমুখী। সোমবার বাজার ২,৫৭০.২৮ পয়েন্টে দিন শেষ করেছে, যা গত ছয় মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন।
মূলধনের ক্ষতি: ২৬শে মার্চ বাজার মূলধন যেখানে ৫.০০৯ ট্রিলিয়ন রুপি ছিল, সোমবার তা কমে ৪.৪১৬ ট্রিলিয়ন রুপিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের দাম থেকে প্রায় ৬০০ বিলিয়ন রুপি উধাও হয়ে গেছে।
কেন এই পতন?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্রমাগত পতনের পেছনে প্রধান কারণ হলো বিনিয়োগকারীদের আস্থার অভাব। সরকারি নীতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং শেয়ার বাজার নিয়ে বিভিন্ন তদন্তের কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বিনিয়োগকারীদের পরিসংখ্যান:
নেপালে প্রায় ৭৯.৮৬ লক্ষ ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট থাকলেও, সক্রিয় বিনিয়োগকারীর সংখ্যা খুবই কম। তথ্যানুসারে, মাত্র ৪ লক্ষ বিনিয়োগকারী সক্রিয়ভাবে শেয়ার কেনাবেচায় যুক্ত আছেন। বর্তমানে নেপালের স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ২৯৪টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত, যার মধ্যে ব্যাংকিং, বীমা এবং জলবিদ্যুৎ খাতের আধিপত্য সবচেয়ে বেশি।
ভবিষ্যৎ কী?
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা নতুন সরকার এখন বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, নাহলে এই পতনের ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।