শ্রাবণী মেলায় ইতিহাস গড়ছেন শুভেন্দু! ১৫ কোটির উপহার, প্রতি সোমবার হেলিকপ্টার থেকে ঝড়বে গোলাপের পাপড়ি!

এবার জাতীয় উৎসবের মর্যাদা পেল তারকেশ্বরের ঐতিহ্যবাহী শ্রাবণী মেলা। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে এই মেলা উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হয় তারকেশ্বরে। তবে এবার নতুন সরকারের হাত ধরে ভক্তদের জন্য আয়োজনে থাকছে এলাহি চমক। এই আধ্যাত্মিক মেলাকে কেন্দ্র করে রাস্তাঘাট সাজানো থেকে শুরু করে হেলিকপ্টারে পুষ্পবৃষ্টি— একগুচ্ছ মেগা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভারতের বহু রাজ্যে এই ধরনের ধর্মীয় পরম্পরাকে যেভাবে সরকার সাহায্য করে, এতদিন তা থেকে এই রাজ্য বঞ্চিত ছিল। তবে এবার আর তা হবে না।

তারকেশ্বর ধাম সাজাতে ১৫ কোটি, আকাশ থেকে হবে পুষ্পবৃষ্টি!
মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে এবং বাবা তারকেশ্বর ধামকে আন্তর্জাতিক স্তরে সাজিয়ে তুলতে ইতিমধ্যেই ১৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক থাকছে আকাশপথে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা:

“আমাদের আধ্যাত্মিক চেতনার এই ভূমিতে যারা জলযাত্রী হিসেবে আসবেন, আবহাওয়া ঠিক থাকলে শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার সরকারি হেলিকপ্টার থেকে সেই ভক্তদের উপর পুষ্পবৃষ্টি করা হবে।”

রুট ম্যাপ রেডি: ৫ কিমি অন্তর সেবা কেন্দ্র ও বিশেষ ক্যাম্প
পুণ্যার্থীদের দীর্ঘ পথ হাঁটার ক্লান্তি দূর করতে ও জরুরি পরিষেবা দিতে প্রশাসন কোমর বেঁধে নামছে। বৈদ্যবাটি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত রাস্তার দু’দিকে ৪টি বড় সেবা শিবির এবং ১৬টি সহায়তা কেন্দ্র গড়া হচ্ছে।

কী কী সুবিধা পাবেন পুণ্যার্থীরা?

প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর নির্দিষ্ট ব্যবধানে গড়ে উঠবে অত্যাধুনিক ‘সেবা কেন্দ্র’।

জলযাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত পানীয় জল, ওআরএস (ORS) এবং বিশ্রামের সুব্যবস্থা থাকবে।

নিমাই তীর্থ ঘাট সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাটকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।

বিনোদনের জন্য থাকছে বিশেষ সাংস্কৃতিক মঞ্চ।

শুধু তারকেশ্বরই নয়, উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির এবং ভুটান সীমান্তের জয়ন্তী এলাকাতেও থাকছে বিশেষ পুলিশ সহায়তা ও মেডিক্যাল ক্যাম্প।

১৫ জুলাই থেকে শুরু বিশেষ যজ্ঞ, রথযাত্রাতেও বড় অনুদান
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৫ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত তারকেশ্বরে একটি বিশেষ মহাযজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে। এরপর ১৮ জুলাই সর্বসাধারণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হবে এই মেলা।

শ্রাবণী মেলার পাশাপাশি রথযাত্রা ও রাজ্যের প্রাচীন মন্দিরগুলির জন্যও বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ঐতিহ্য ও উন্নয়নকে একসঙ্গে নিয়েই এগোতে চায় বর্তমান সরকার। সেই লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৮টি প্রাচীন রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে, যাতে দশকের পর দশক পুরনো এই রথগুলির সঠিক মেরামত ও সংরক্ষণ করা যায়। একই সঙ্গে রাজ্যের একাধিক প্রাচীন মন্দিরকে হেরিটেজ হিসেবে রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগও শুরু হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *