প্রথম শ্রেণির ছাত্রকে যৌন হেনস্তা! ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানে উত্তাল চত্বর, প্রিন্সিপালের অপসারণের দাবি!

মেদিনীপুরের এক নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে প্রথম শ্রেণির ছাত্রকে যৌন হেনস্তার ঘটনায় ছড়াল তীব্র চাঞ্চল্য। ঘটনার জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন অন্যান্য পড়ুয়াদের অভিভাবকরা। অভিযুক্ত অস্থায়ী কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও, স্কুলের প্রিন্সিপালের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এবার আন্দোলনে নামলেন তাঁরা। “যে অপরাধ করে সে যেমন দোষী, যে অপরাধীকে বাঁচায় সেও সমান দোষী”— এই স্লোগান তুলে সোমবার সকাল থেকেই স্কুলের গেটের সামনে অবস্থানে বসেন শয়ে শয়ে অভিভাবক। তাঁদের সমবেত দাবি, অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে স্কুলের প্রিন্সিপালকে।

শৌচাগারে নিয়ে গিয়ে খুদেকে যৌন হেনস্তা!
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। মেদিনীপুরের ওই স্বনামধন্য ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রকে শৌচাগারে নিয়ে গিয়ে যৌন হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে স্কুলেরই এক অস্থায়ী কর্মীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার কথা জানতে পেরেই ভেঙে পড়ে শিশুটির পরিবার। দ্রুত তাঁরা পুলিশের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করেন এবং স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তকে একটি ঘরে আটকে রেখে কোতোয়ালি থানায় খবর দেয়। পুলিশ এসে অভিযুক্তকে নিয়ে যায় এবং রাতে লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার মেদিনীপুর জেলা আদালত অভিযুক্তকে ৩ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

“প্রিন্সিপাল চুপ কেন?”— ক্ষোভে ফুঁসছেন অভিভাবকরা
অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও স্কুলের নিরাপত্তা ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। সোমবার সকালে তাঁরা সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। হাততালি দিয়ে গর্জে ওঠেন ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ দাবিতে।

আন্দোলনকারী অভিভাবক শঙ্করী সামন্ত বলেন:

“এত বড় ন্যাক্কারজনক ঘটনা ভূ-ভারতে কখনও ঘটেনি। এই ঘটনায় প্রিন্সিপালের কোনও ইতিবাচক ভূমিকা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। যে দোষীকে বাঁচায়, সেও সমান অপরাধী। আমরা ওঁর কঠোর শাস্তি এবং অপসারণ চাই।”

অন্য এক অভিভাবক সুপর্ণা চক্রবর্তী খুদেদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমাদের ছোট ছোট বাচ্চারা এই স্কুলে পড়ে। এমন ঘটনা ঘটলে বাচ্চাদের নিরাপত্তা কোথায়? আক্রান্ত বাচ্চার স্বাস্থ্যের খোঁজখবরও নেয়নি স্কুল। এই ধরনের ঘটনা যে বাকিদের সাথেও ঘটেনি, তার গ্যারান্টি কে দেবে? প্রিন্সিপালকে এসে আমাদের মুখোমুখি জবাব দিতে হবে।”

স্কুল কর্তৃপক্ষকে কড়া চিঠি জেলা পুলিশ সুপারের
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রসঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানান, পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি স্কুলের নিরাপত্তা জোরদার করতে স্কুল কর্তৃপক্ষকে দু-তিনটি কড়া শর্ত দিয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

পুলিশের দেওয়া প্রধান শর্তগুলি হলো:

স্কুলের প্রতিটি শৌচাগারের প্রবেশপথে (বাইরে) বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা লাগাতে হবে।

স্কুলে কোনও কর্মী নিয়োগের আগে তাঁদের সঠিকভাবে ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন বা স্ক্রিনিং করতে হবে।

পড়ুয়া এবং বড়দের (কর্মী ও শিক্ষক) ব্যবহারের শৌচাগার সম্পূর্ণ আলাদা করতে হবে।

স্কুলের ভেতরে একটি প্রথম শ্রেণির শিশুর সাথে এমন অমানবিক ঘটনা ঘটায় জেলার শিক্ষামহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিভাবকরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ না প্রিন্সিপালের অপসারণ হচ্ছে এবং বাচ্চাদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা মিলছে, ততক্ষণ তাঁদের আন্দোলন চলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *