হরমুজ প্রণালীতে অশান্তির আঁচ! জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কায় চিন্তিত লগ্নিকারীরা

পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে সামরিক উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ায় তার সরাসরি প্রভাব পড়ল আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম এক ধাক্কায় বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭৯ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য ও তেল সরবরাহের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
কেন বাড়ছে তেলের দাম?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ হলো হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা। ইরান ও আমেরিকার সাম্প্রতিক পালটা-পালটি সামরিক আক্রমণের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এর পাশাপাশি ইউরোপের প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারেও প্রায় ২.৭ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
ভারতের ওপর প্রভাব:
ভারতে বর্তমানে পেট্রল ও ডিজেলের দাম স্থিতিশীল থাকলেও, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই ঊর্ধ্বগতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা দেশের আমদানি খরচের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। ভারত তার প্রয়োজনীয় খনিজ তেলের ৮৫-৯০% আমদানি করে। ফলে বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে জ্বালানি বিপণন সংস্থাগুলোর ওপর চাপ বাড়বে, যার শেষ পরিণতি হিসেবে খুচরো বাজারেও জ্বালানির দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
পরিস্থিতি কতদূর?
যদিও ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনও এই সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নেয়নি, তবে পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগজনক। যদিও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং পারস্য উপসাগরের অন্যান্য দেশগুলো তেল রপ্তানি বাড়িয়ে পরিস্থিতির সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে, তবুও নতুন এই সংঘাত সরবরাহ ব্যবস্থাকে ফের অনিশ্চিত করে তুলেছে।